Multi Drug Resistant Bacteria:’সুপারবাগ’ এবার সাবাড়! ভারতের মাটিতে বিজ্ঞানের বিপ্লব, আবিষ্কার হল দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক…

Multi Drug Resistant Bacteria:’সুপারবাগ’ এবার সাবাড়! ভারতের মাটিতে বিজ্ঞানের বিপ্লব, আবিষ্কার হল দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বহুক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে কোনও অ্যান্টিবায়োটিই রোগীর শরীরে কাজ করে না। তৈরি হয়ে যায় মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া। অর্থাত্ ব্যাকটেরিয়া নিজেকে এমনভাবে তৈরি করে নেয় যে কোনও অ্যান্টি বায়োটিকই তাকে দমন করতে পারে না। এনিয়ে বর্তমানে প্রবল বিপাকে চিকিত্সককূল। বিদেশে এই রকম অবস্থা বেশি লক্ষ্য করা যায়। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসবে বিশাল খবর শোনাল ভারতের ফার্মা কোম্পানি ওখাহার্ট।

ওকাহার্টের হাত ধরে বাজারে আসতে চলেছে নয়া অ্যান্টিবায়োটিক জায়ানিক(Zaynich)। সূত্রের খবর জায়ানিক দুটি অ্যান্টিবায়োটিক মিশিয়ে নতুন ওই ওষুধ তৈরি করেছে। ফলে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক জায়ানিকে থাকছে দুধরনের অ্যান্টি বায়োটিকের শক্তি। বলা হচ্ছে গত ৩ দশকে ভারতের কোনও ফার্মা কোম্পানির হাত ধরে বাজারে আসতে চলেছে শক্তিশালী এই অ্যান্টিবায়োটিক।  এই ওষুধ বাজারে এলে গোটা দুনিয়ায় অ্যান্টি বায়োটিক রেজিস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে বড় ঘটনা ঘটে যাবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তরফে বলা হয়েছে, মাল্টি ড্রাগ রেডিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া যেমন ই-কোলাই, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া, অ্যাসিনোব্যাকটরের মতো ব্যাকটেরিয়া রীতিমত কুখ্যাত। এদের শরীরের গঠন ও দেহে থাকা এনজাইম এমনই যে কোনও রকম অ্য়ান্টি ব্যাকটেরিয়াল ড্রাগ এদের কোনও ক্ষতি করতে পারে না। এইসব ব্যাকটেরিয়া নিউমোনিয়া ও ম্য়ানেনজাইটিসের মতো গুরুতর রোগের কারণ। এরকম ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করলে রোগীর চিকিত্সা করা কঠিন হয়ে ওঠে। অধিকাংশ উন্নত দেশ এরকম রোগী নিয়ে নাজেহাল। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জায়ানিক বাজারে এলে দেশে ও বিদেশে এই অ্যান্টিবায়োটিকের কদর লাফিয়ে বাড়বে।

জায়ানিক(Zaynich) আসলে একটি কম্বিনেশন ড্রাগ। কারণ এতে রয়েছে সেফেপাইম ও জিডেব্যাকটাম। সেফেপাইম ব্যাকটেরিয়ার দেওয়ালে হামলা চালিয়ে ব্যাকটেরিয়াকে নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি দুটো অ্যান্টিবায়োটিক একসঙ্গে কাজ করার ফলে ঘাতক অন্টিবায়োটিকের উপরে জোরাল ভাবে কাজ করে। সূত্রের খবর জায়ানিক(Zaynich) অন্যান্য অ্যান্টিবায়েটিকের থেকে কমপক্ষে ২০ শতাংশ বেশি কাজ করে।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বিশ্ব স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলির মধ্যে একটি হিসাবে গণ্য করা হয়। বাস্তবতা হলো, বিশ্বের বহু হাসপাতালের গ্রাম-নেগেটিভ “সুপারবাগগুলি” আর প্রথম সারির বা এমনকি শেষ ভরসার অ্যান্টিবায়োটিকগুলিতেও সাড়া দিচ্ছে না। উপরন্তু, প্রতিরোধী সংক্রমণগুলির কারণে হাসপাতালে বেশি দিন থাকতে হয়, চিকিৎসার খরচ বাড়ে, অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায় এবং চিকিৎসার বিকল্প কমে যায়। এর সাথে আমাদের ভারতীয় প্রেক্ষাপটটিও বিবেচনা করতে হবে।

ভারত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যাপক ব্যবহার, সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে বোঝা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অতএব, স্থানীয়ভাবে সরঞ্জাম তৈরি করা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আরও একটি বিষয় হল, প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া কোনো সীমানা মানে না, তাই একটি দেশে সফলভাবে তৈরি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

যে কোনো নতুন ওষুধের মতোই, জাইনিককে সুরক্ষা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ফার্মাকোকাইনেটিক্স এবং বিভিন্ন রোগীর গোষ্ঠীর মধ্যে বাস্তব-জগতের কার্যকারিতা প্রমাণ করার জন্য কঠোর ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলি পাস করতে হবে। চিকিৎসা কর্তৃপক্ষগুলির (যেমন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ, জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ প্রোগ্রাম) এটিকে মূল্যায়ন করতে হবে এবং ভারতে সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য তৈরি প্রোটোকলগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। চিকিৎসাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হলে, জাইনিককে সাশ্রয়ী এবং বৃহৎ আকারে উৎপাদনযোগ্য হতে হবে। ভারতের ওষুধ শিল্প এখানে সাহায্য করতে পারে, তবে বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা (সরকারি হাসপাতাল সহ) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে যার ওপর নজর রাখতে হবে।

এত কিছুর পরেও, একটি ঝুঁকি থেকেই যায় যে, সময়ের সাথে সাথে ব্যাকটেরিয়া এই ওষুধের বিরুদ্ধেও নতুন প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। তাই, চলমান নজরদারি এবং স্টুয়ার্ডশিপ (সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করা) অপরিহার্য হবে।

ওকহার্ডের দ্বারা জাইনিকের এই উদ্ভাবন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধে ভারতের জন্য একটি সম্ভাব্য যুগান্তকারী পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং স্বল্প ডোজের যে প্রতিশ্রুত লাভ দেখা যাচ্ছে, তার পরেও সামনের পথে রয়েছে পুঙ্খানুপুঙ্খ ক্লিনিকাল বৈধতা, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, খরচ-সাপেক্ষ স্কেলিং এবং কঠোর স্টুয়ার্ডশিপের অধীনে রোগীর যত্নে এর সংহতকরণ। এই সমস্ত কিছু যদি সঠিক ভাবে কাজ করে, তবে জাইনিক কেবল ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধী সংক্রমণের মুখোমুখি হওয়া রোগীদের জন্য প্রাণ রক্ষাকারী হতে পারে। ততক্ষণ পর্যন্ত, চিকিৎসা মহলকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, স্বচ্ছ গবেষণাকে সমর্থন করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে এই ধরনের উদ্ভাবনগুলি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের জন্য দায়িত্বের সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে।

(Feed Source: zeenews.com)