
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নামতা না বলতে পারায় প্রথম শ্রেণির ছাত্রকে বেধড়ক মার প্রধান শিক্ষিকার। ঘটনাটি, মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলার এক বেসরকারি স্কুলের। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২-এর নামতা বলতে পারছিল না ছয় বছরের খুদে। তাই রেগে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকা তাকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করে।
ঘটনাটি ঘটে ১১ অক্টোবরে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যেবেলা প্রধান শিক্ষিকা শশিকলা ঠাকুরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান সিভিল লাইনস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিতেশ পাটিল।
শিশুটির বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) এবং শিশু ন্যায়বিচার (চাইল্ড কেয়ার ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৫ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিস আরও জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষিকা ছাত্রছাত্রীদের ২-এর নামতা মুখস্থ করতে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভুক্তভোগী শিশু নামতা না বলতে পারায়, তিনি তাকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে শাস্তিস্বরূপ মারধর করেন।
আরও জানা যায়, স্কুল থেকে ফিরে শিশুটি পরিবারের কারোর সঙ্গে কথা বলছিল না। পরে তার মা যখন তার পোশাক বদলাচ্ছিলেন, তখন দেখেন তার উরু ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এরপর শিশুটিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, শিশুটির উপর স্কুলে ঘটে যাওয়া এই নির্যাতনের ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশে এই ধরণের ঘটনা প্রথম নয়। আর আগে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রকে নিয়ম শেখানোর নামে নিষ্ঠুর শাস্তি দেয় শিক্ষক। ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
সেখানে দেখা যায়, শিশুটিকে একটি টেবিলের নিচে চেপে ধরে কাঠের লাঠি দিয়ে তার পিঠে বারবার আঘাত করা হচ্ছে। শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও শিক্ষক থামেননি। এই দৃশ্য দেখে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হতভম্ব হয়ে গেলেও কেউ শিশুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।
(Feed Source: zeenews.com)
