Ex IAF officer Holds Own Funeral: নিজেই খাটে শুয়ে ফুলে সেজে শ্মশানে যেতে তৈরি, Ex বায়ু সেনার কীর্তিতে তোলপাড়…

Ex IAF officer Holds Own Funeral: নিজেই খাটে শুয়ে ফুলে সেজে শ্মশানে যেতে তৈরি, Ex বায়ু সেনার কীর্তিতে তোলপাড়…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয়রা সবসময়ই সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু অবসর নেওয়ার পর মানুষের সেই ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা এখনও অটুট আছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য অভিনব এক পন্থা নিলেন বিহারের গয়া জেলার এক অবসরপ্রাপ্ত বায়ু সেনা। ৭৪ বছর বয়সী এই প্রবীণ সামরিক কর্তা নিজেই আয়োজন করলেন নিজের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, যা জানতে পেরে কার্যত স্তম্ভিত গোটা গ্রাম।

বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহনলালজির এই ‘শেষযাত্রা’য় কোঞ্চি গ্রামের শত শত মানুষ যোগ দেন। ভিড় গলা ছেড়ে “রাম নাম সত্য হ্যায়” ধ্বনি দিতে দিতে শ্মশানের দিকে এগোয়। পটভূমিতে বাজতে থাকে জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমার গান, “চল উড় যা রে পঞ্ছি, অব দেশ হুয়া বেগানা”।

সাদা পোশাকে সেজে, ফুলে সজ্জিত খাটিয়ার ওপর শুয়ে মোহনলাল প্রথমে মৃতের অভিনয় করছিলেন। কিন্তু তাঁর ‘মৃতদেহ’ স্থানীয় শ্মশানঘাটে পৌঁছনোর পরই ঘটল চমক। সবাইকে অবাক করে দিয়ে খাটিয়া থেকে উঠে বসলেন তিনি!

এরপর তিনি নিজের জায়গায় একটি প্রতীকী কুশপুতুল দাহ করেন এবং শেষকৃত্যের সমস্ত প্রথাগত নিয়ম পালন করেন। শেষে ছাইগুলি কাছাকাছি একটি নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানের পর তিনি উপস্থিত সকলের জন্য একটি সম্মিলিত ভোজেরও আয়োজন করেন, যা সবাই বেশ আনন্দের সঙ্গেই গ্রহণ করেন।

কেন এমন করলেন তিনি?

নিজের এই অভিনব উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করে মোহনলাল বলেন, তিনি নিজের শেষযাত্রা দেখতে চেয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “একজন মানুষ মারা গেলে, কে কে তাঁর শেষকৃত্যে অংশ নিচ্ছে, তা তিনি জানতে পারেন না। আমি নিজে এই অভিজ্ঞতা নিতে চেয়েছিলাম এবং বুঝতে চেয়েছিলাম মানুষের মনে আমার জন্য কতটা সম্মান ও ভালোবাসা আছে।”

গ্রামবাসীদের কাছে মোহনলালজি তাঁর সামাজিক অবদানের জন্য অত্যন্ত পরিচিত। তিনি তাঁর পেনশন দিয়ে এখনও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সাহায্য করে চলেছেন। সব মিলিয়ে, এই প্রবীণ বিমান সেনা এমন এক বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন, যা খুব কম মানুষই পান—নিজের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সশরীরে উপস্থিত থাকা এবং ছাই হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে মানুষের প্রশংসা ও ভালোবাসা নিয়ে সগৌরবে বাড়ি ফেরা।

মোহনলালজির দুই পুত্র এবং এক কন্যা। তাঁর বড় ছেলে ডাঃ দীপক কুমার, কলকাতার একজন চিকিৎসক এবং ছোট ছেলে বিশ্ব প্রকাশ একজন স্কুল শিক্ষক। তাঁর মেয়ে গুড়িয়া কুমারী ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে থাকেন। ১৪ বছর আগে তিনি তাঁর স্ত্রী জীবনজ্যোতিকে হারিয়েছেন।

(Feed Source: zeenews.com)