Indians Ineligible For US Green Card Lottery: H1B ভিসার পর ফের খ্যাপা ট্রাম্পের গুঁতো! ২০২৮ অবধি কোনও ভারতীয়কে গ্রিন কার্ড দেবে না আমেরিকা…

Indians Ineligible For US Green Card Lottery: H1B ভিসার পর ফের খ্যাপা ট্রাম্পের গুঁতো! ২০২৮ অবধি কোনও ভারতীয়কে গ্রিন কার্ড দেবে না আমেরিকা…

জি ২৪ ঘণ্টা জিজিটাল ব্যুরো: বিপুল সংখ্যক অভিবাসনের কারণে ভারতীয় নাগরিকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (Diversity Visa) (DV) বা গ্রিন কার্ড লটারির (Green Card Lottery) জন্য সম্ভবত ডিভি- ২০২৮ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন না।

Add Zee News as a Preferred Source

২০২৮ সাল পর্যন্ত আমেরিকার গ্রিন কার্ডের লটারি থেকে বাদ ভারতীয়েরা। অর্থাৎ, আগামী তিন বছর মার্কিন মুলুকে অভিবাসনের জন্য গ্রিন কার্ডের লটারিতে ভারতের কেউ যোগ দিতে পারবেন না। হোয়াইট হাউসের (White House) কুর্সিতে দ্বিতীয় বারের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন (Immigrants) নিয়ে কড়া হয়েছেন। গ্রিন কার্ড লটারির নিয়ম অনুযায়ী, আগামী অন্তত তিন বছর আমেরিকায় অভিবাসনের অন্যতম সহজ রাস্তা ভারতীয়দের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাকি যে রাস্তাগুলি খোলা আছে, তাতেও বাড়ছে কড়াকড়ি।

গ্রিন কার্ড লটারি কি?

আমেরিকায় অভিবাসীদের মধ্যে বৈচিত্র আনতে গ্রিন কার্ড ভিসা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এর পোশাকি নাম আমেরিকা ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি, তবে গ্রিন কার্ড লটারি হিসাবেই এটি পরিচিত। কোন বছর কোন দেশ থেকে নাগরিকেরা আমেরিকায় অভিবাসনের অনুমতি পাবেন, তা এই লটারির মাধ্যমে ঠিক হয়। নিয়ম অনুযায়ী, শেষ পাঁচ বছরে যে সমস্ত দেশ থেকে ৫০ হাজারের কম মানুষ আমেরিকায় থাকতে গিয়েছেন, সেই দেশের নাগরিকেরাই লটারিতে সুযোগ পাবেন। ভারত সেই সীমা পেরিয়ে গিয়েছে।

ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রামের লক্ষ্য: 

ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রামের লক্ষ্য হলো আমেরিকার অভিবাসী জনসংখ্যায় বৈচিত্র্য আনা। এর মাধ্যমে সেই সব দেশ থেকে আবেদনকারীদের বেছে নেওয়া হয়, যেখান থেকে ঐতিহাসিকভাবে কম সংখ্যক অভিবাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন।

যোগ্যতা অর্জনের জন্য, একটি দেশকে বিগত পাঁচ বছরে ৫০,০০০-এর কম অভিবাসী পাঠাতে হয়। ভারত কখনোই এই সংখ্যার নিচে ছিল না, এবং সেই কারণে এই লটারি থেকে স্বাভাবিকভাবেই বাদ পড়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে ভারত থেকে ৯৩,৪৫০ জন, ২০২২ সালে ১,২৭০১০ জন এবং ২০২৩ সালে ৭৮,০৭০ জন আমেরিকায় গিয়েছেন। ২০২২ সালের পরিসংখ্যান তো সমগ্র ইউরোপ, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি। এর ফলে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকেরা গ্রিন কার্ড লটারির দৌড় থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। ২০২৬ সালে লটারিতে কোন কোন দেশ যোগ দিতে পারবে, সম্প্রতি তার তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। ভারত ছাড়াও ওই তালিকায় নাম নেই চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, কানা়ডা এবং পাকিস্তানের।

বিশ্বব্যাপী তুলনা: ২০২২ সালে ভারতীয় অভিবাসীর মোট সংখ্যা (১২৭,০১০) ছিল ওই একই বছরে সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকা (৯৯,০৩০), আফ্রিকা (৮৯,৫৭০) বা ইউরোপ (৭৫,৬১০) থেকে আসা মোট অভিবাসীর চেয়েও বেশি।

এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যার কারণে, ভারতীয় নাগরিকরা ডিভি-২০২৮ সাইকেলের জন্যও এই লটারিতে অযোগ্য থাকবেন।

অন্যান্য দেশ এবং বিকল্প পথ

উচ্চ অভিবাসন হারের কারণে পরবর্তী ডিভি-২০২৬ সাইকেলের জন্য ভারত ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশ, যেমন—চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা এবং পাকিস্তানকেও এই লটারি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যোগ্য দেশগুলির জন্য সাম্প্রতিক ভিসা বরাদ্দের কথা বুধবার জানানো হয়েছে।

গ্রিন কার্ড লটারি ছাড়া ভারতীয়দের সামনে এখন আমেরিকায় অভিবাসনের হাতেগোনা কয়েকটি রাস্তা খোলা আছে। এইচ-১বি ভিসাকে স্থায়ী নাগরিকত্বে পরিণত করে, বিনিয়োগ ভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে, আশ্রয় চেয়ে অথবা পারিবারিক অনুদানের ভিত্তিতে আবেদন করে মার্কিন অভিবাসী হওয়া যাবে। তবে এই পথগুলিতেও ট্রাম্প নিয়ম কঠোর করছেন। এ ছাড়া, অবৈধ ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করলে তাঁদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বার করে দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকায় থেকে যাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন, তাঁদেরও বিপদ। প্রশাসন তাঁদের চিহ্নিত করছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। সম্প্রতি ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ নেতা চার্লি কার্কের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে মন্তব্য করায় ছ’জন বিদেশির ভিসা কেড়ে নিয়েছে ট্রাম্পের সরকার।

কর্মসংস্থান-ভিত্তিক ভিসা (যেমন, এইচ-১বি থেকে গ্রিন কার্ডে রূপান্তর)

পারিবারিক স্পনসরশিপ

বিনিয়োগ-ভিত্তিক অভিবাসন

অ্যাসাইলাম বা রাজনৈতিক আশ্রয়

(Feed Source: zeenews.com)