জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইস্টবেঙ্গলকে টাইব্রেকারে হারিয়ে (৪-৫) মোহনবাগান (East Bengal vs Mohun Bagan) গত শনিবার ১২৫তম আইএফএ শিল্ড (IFA Shield Final 2025) জিতেছে। ২২ বছর আগে ২০০৩ সালে এই ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সবুজ-মেরুন। এক্সট্রা টাইম-সহ ১২০ মিনিটের খেলার পরেও ১-১ ফল ছিল। এরপর পেনাল্টি শুটআউটে বাজিমাত করে মোহনবাগানকে ২১তম শিল্ড ঘরে তোলে। আর এই হারের পরেই ইস্টবেঙ্গলে শুরু ‘গৃহযুদ্ধ’! যার জেরে দলের গোলকিপিং কোচের দায়িত্ব ছাড়লেন সন্দীপ নন্দী (Sandip Nandy Steps Down As East Bengal Goalkeeping Coach)
কেন দায়িত্ব ছাড়লেন সন্দীপ নন্দী?
আইএফএ শিল্ড ফাইনালে পুরো ম্যাচে দারুণ খেলা প্রভসুখন গিলকে তুলে, শুধুমাত্র টাইব্রেকারের জন্য রিজার্ভে থাকা দেবজিৎ মজুমদারকে নামিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। শেষ মুহূর্তে মেহতাব সিংহের হেড যদি গিল বাঁচিয়ে না দিতেন, তাহলে সেদিন ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়াতই না। স্পট-কিকে প্রথম শটটা ‘সেভজিৎ’ প্রায় বাঁচিয়ে ফেলেলও শেষরক্ষা করতে পারেননি। তিনি আর কোন শটই রুখতে পারেননি। স্পট-কিকে বাগানের হয়ে পাঁচজন- রবসন,মনবীর, লিস্টন, দিমি ও মেহতাব গোল করেছিলেন। ইস্টবেঙ্গলের মিগুয়েল-সিবিল-মহেশ-হিরোশি গোল করলেও বিশাল কাইথের হাতে আটকে গিয়েছিল জয় গুপ্তার শট। আর ঠিক ওখানেই ডার্বির ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
সাংবাদিক বৈঠকে অস্কারের ক্ষোভ
হারের পর অস্কার সাংবাদিক বৈঠকে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। গিলের বদলে দেবজিৎকে নামানো নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘দেবজিৎকে নামানোর সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। আমি সাপোর্ট স্টাফের কথা শুনেই দেবজিৎকে নামিয়েছিলাম। এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া ঠিক হয়নি। গিলকেই মাঠে রাখা উচিত ছিল।’ এভাবে সকলের সামনে সাপোর্ট স্টাফকে দোষারোপ করার ঘটনা প্রায় বিরল। সূত্রের খবর, সেই সাপোর্ট স্টাফ নাকি সন্দীপই ছিলেন। তাঁর জোরাজুরিতেই অস্কার নাকি দেবজিৎকে নামিয়ে ছিলেন। দেবজিতের অতীতে শুটআউটের পরিসংখ্যানের কথা বলিয়েই তিনি অস্কারকে রাজি করান।
অপমানিত সন্দীপের চরম সিদ্ধান্ত
ডার্বির ঘটনার পরেই ইস্টবেঙ্গলের ফাটল ধরেছে বলে জানা গিয়েছিল। সোমবার কালীপুজোর দিনই, ইস্টবেঙ্গল সুপার কাপ খেলতে গোয়ায় চলে এসেছে। সাগরতীরেই লাল-হলুদের গৃহযুদ্ধ একেবারে প্রকাশ্যে চলে আসে। জানা যাচ্ছে যে, অস্কারে ব্রুজোঁর রোষে পড়েন সন্দীপ,পুরো টিম, প্লেয়ারদের সামনেই নাকি সন্দীপকে অপমান করেন অস্কার । অপমানিতই হয়েই পদত্যাগের চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সন্দীপ। জানা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই গোয়া থেকে কলকাতায় ফেরার প্রস্তুতি শুরু করেছেন বর্ধমানের ৫০ বছরের প্রাক্তন ফুটবলার।
(Feed Source: zeenews.com)
