)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্বে এই প্রথম। এ গ্রুপের রক্তের কোনও ব্যক্তির দেহের কিডনি এখন ইউনিভার্সাল ব্লাড টাইপ O-তে (Type O) বদলে ফেলা গেল। স্পেশাল এনজাইম সিস্টেমের মাধ্যমে এটা সম্ভব। এই প্রথম মানবদেহে পরীক্ষামূলক ভাবে পরিবারবর্গের সম্মতিতে একজন প্রায়-মৃত গ্রহীতার শরীরে ওই এনজাইম-রূপান্তরিত বৃক্কটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। যা বিজ্ঞানীদের শরীরের প্রতিক্রিয়া স্টাডি (Universal kidney) করার সুযোগ দেয়।
এই উদ্ভাবনের গুরুত্ব
Nature Biomedical Engineering জার্নালে প্রকাশিত যুগান্তকারী এই খবরটি কিডনির চিকিৎসায় বিপ্লব এনে দিয়েছে। এ বিষয়ে ওষুধের সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী বাধাগুলির মধ্যে একটি ছিল– রক্তের গ্রুপের সামঞ্জস্যতা বা blood-type compatibility দূর করে অঙ্গ প্রতিস্থাপন। এবার সেক্ষেত্রেই বিপ্লব আনতে পারে এই নতুন উদ্ভাবন।
উৎসেচকের খেলা
এই উদ্ভাবনের মূলে রয়েছে দুটি এনজাইম। এনজাইমগুলি মলিকিউল সিজর হিসাবে কাজ করে, যা রক্ত গ্রুপ ‘এ’ নির্ধারণকারী শর্করার অণুগুলিকে অপসারণ করে এবং তুলনায় নিরপেক্ষ ও কে উন্মোচিত করে। এই পরিবর্তনের ফলে অঙ্গটি যে-কোনো গ্রহণকারীর প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাছে সর্বজনীনভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়।
মাইল্ড ইমিউন রিয়্যাকশন
দু’দিন ধরে বৃক্কটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করে এবং হাইপারঅ্যাকিউট রিজেকশনের কোনো লক্ষণ দেখায়নি। মারাত্মক রোগ-প্রতিরোধক প্রতিক্রিয়াটি কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্গকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তৃতীয় দিনে, রক্তের গ্রুপের কিছু মার্কার পুনরায় দেখা যায়। তবে তা কেবল একটি মৃদু রোগ-প্রতিরোধক প্রতিক্রিয়া, যাকে বলে মাইল্ড ইমিউন রিয়্যাকশন তৈরি করেছিল।
বিপ্লব, নবজীবন
আগে ও গ্রুপের রক্তের রোগীরা– বিশ্ব জুড়ে কিডনির জন্য অপেক্ষা করে থাকা রোগীর তালিকার অর্ধেকেরও বেশি যারা– শুধুমাত্র ও গ্রুপের দাতাদের কাছ থেকেই অঙ্গ গ্রহণ করতে পারতেন। ফলস্বরূপ, ও গ্রুপের রোগীদের সাধারণত অন্যদের তুলনায় দু থেকে চার বছর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হত। এবং প্রায়শই প্রতিস্থাপনের আগেই মারা যেতেন তাঁরা। কিন্তু দাতা অঙ্গগুলিকে ও গ্রুপে রূপান্তরিত করা গেলে দাতাদের ভাণ্ডারকে (donor pool) অনেকটাই প্রসারিত করা যেতে পারে। এর ফলে হাজার হাজার জীবন বাঁচানো যেতে পারে।
(Feed Source: zeenews.com)
