
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিহার নির্বাচনে (Bihar Assembly Election 2025) ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Alians) মুখ্যমন্ত্রী (CM) মুখ তেজস্বী যাদবই (Tejaswi Yadav)। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে লালুপুত্রের নাম ঘোষণা করল বিরোধী জোট। ইন্ডিয়ার ‘ঐক্য’ বজায় রাখতে বিকাশশীল ইনসান পার্টির প্রধান মুকেশ সাহানিকে (Mukesh Sahani) উপমুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ বিহারে জিতলেও সরকারে বড় পদ পাবে না কংগ্রেস। জোটসঙ্গীদের দাবিতে মাথা নোয়াতে হল হাত শিবিরকে।
বৃহস্পতিবার পটনা থেকে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এই ‘ঐকমত্যে’র কথা ঘোষণা করল বিহারের ‘মহাগঠবন্ধন’ (Mahagathbandhan)।
আসন সমঝোতা থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবারের যৌথ সাংবাদিক বৈঠক শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত বিতর্ক পিছু ছাড়েনি ‘মহাগঠবন্ধন’কে। বিহারের তিনটি আসনে দুই প্রধান বিরোধী দল আরজেডি এবং কংগ্রেস, উভয়েই প্রার্থী দিয়েছে। বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, ওই আসনগুলিতে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ হবে তাদের মধ্যে। তবে ভোটের ল়ড়াইয়ে এমন ‘বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ নিয়ে তাদের খোঁচা দিতে শুরু করেছে বিজেপি এবং জেডিইউ। বৃহস্পতিবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের মঞ্চের পিছনে যে হোর্ডিংটি ব্যবহার হয়েছে, সেখানেও ছিল শুধু তেজস্বীর ছবি। বিরোধী জোটের অন্য দলগুলির নেতাদের কোনও ছবি ছিল না সেখানে। তা নিয়েও বিতর্ক দানা বাঁধে। এ অবস্থায় যৌথ সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিরোধী শিবির নিজেদের মধ্যে ‘ঐকমত্য’ তুলে ধরার চেষ্টা করল বলেই মনে করা হচ্ছে।
বুধবার আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব-সহ একাধিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অশোক গেহলট। সেই বৈঠক যথেষ্ট ইতিবাচক হয়েছে বলে দাবি করেন গেহলট। কিন্তু আসনরফা যে চূড়ান্ত হয়নি, সেটা উল্লেখ না করলেও স্বীকার করে নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, ‘বিহারে ২৪৩টা আসন রয়েছে। তার মধ্যে পাঁচ-দশটা আসনে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই হতেই পারে।’ তবে গেহলটের বিশ্বাস, এনডিএর বিরুদ্ধে একজোট হয়েই লড়বে ইন্ডিয়া জোট।
লালুর সঙ্গে বৈঠকের পরেই গেহলট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তেজস্বীকে ইন্ডিয়া জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হতে পারে। যদিও বিহার কংগ্রেসের অনেকেই চাননি কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে নির্বাচনে নামুক জোট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোটের ভাঙন রুখতে আরজেডির দাবিতে মাথা নোয়াল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার পাশাপাশি উপমুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছে ইন্ডিয়া জোট। সেখানেও কংগ্রেসের ঝুলি শূন্য। হাতেগোনা কয়েকটি আসনে লড়াই করা ভিআইপির প্রধানকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হল।
বৃহস্পতিবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের মঞ্চে গেহলৌত, তেজস্বীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এমএল) (CPIML) নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও। যৌথ সাংবাদিক বৈঠক শেষে বেরোনোর সময়ে তিনি বলেন, “বিহারের মতো একটি বড় রাজ্যে, প্রয়োজন অনুসারে ‘উপমুখ্যমন্ত্রী মুখ’ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম হয়ত, আরও বেশি সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। কিন্তু এ বার জোট বড় হয়েছে। তাই আমরা কম আসনে, ২০টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। তবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করব।
‘আমাদের লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রীর পদ পাওয়া নয়, বরং একটি নতুন বিহার তৈরি করা,’ ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সমস্ত নেতাদের তাঁর প্রতি আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তেজস্বী এই মন্তব্য করেন। ‘এনডিএ (NDA) সরকার গত ২০ বছরে যা করতে পারেনি, আমরা ২০ মাসে সেই কাজ করে দেখাব,’ তিনি জোর দিয়ে বলেন। এনডিএ-র মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা না করা নিয়ে কটাক্ষ করে আরজেডি (RJD) নেতা বলেন যে, এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে নীতীশ কুমার আর মুখ্যমন্ত্রী হবেন না। ‘এনডিএ-র এখন উচিত তাদের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ঘোষণা করা,’ তিনি বলেন, এবং বলেন যে, ‘সকলেই জানত যে বিজেপি (BJP) নীতীশ কুমারকে আর মুখ্যমন্ত্রী করবে না’।
তিনি নীতীশ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর কর্মসূচি ও নীতি নকল করারও অভিযোগ করেন। এই অনুষ্ঠানে গেহলট আরও ঘোষণা করেন যে, নির্বাচনের পর ‘ইন্ডিয়া’ জোট সরকার গঠন করলে বিকাশশীল ইনসান পার্টি (VIP)-র সুপ্রিমো এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মুকেশ সাহানি উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন। তিনি বলেন যে, জোট রাজ্যে ক্ষমতায় এলে অন্যান্য সামাজিক গোষ্ঠী থেকেও উপমুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করা হবে। সাহানি প্রথম থেকেই উপমুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য জোর দিচ্ছিলেন এবং তাঁকে এই পদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে তিনি কিছু আসন ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত ছিলেন। সিপিআই-এমএল (লিবারেশন)-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন যে, বিহার ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। গেহলট আরও ঘোষণা করেন যে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা শীঘ্রই নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন।
(Feed Source: zeenews.com)
