ISKCON Bangladesh: ইসকন ইহুদিদের মদতপুষ্ট সংগঠন, এক্ষুনি নিষিদ্ধ করতে হবে, তোলপাড় ঢাকা-সহ একাধিক শহর

ISKCON Bangladesh: ইসকন ইহুদিদের মদতপুষ্ট সংগঠন, এক্ষুনি নিষিদ্ধ করতে হবে, তোলপাড় ঢাকা-সহ একাধিক শহর

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশজুড়ে ধর্মবিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড, হত্যা, হুমকি, অপহরণের অভিযোগে ইসকনের বিরুদ্ধে মিছিলে তোলপাড় ঢাকা-সহ দেশের একটি বড় অংশ। ইসকনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামল বাংলাদেশের ইসলামপন্থী সংগঠন তৌহিদি জনতা। পাশাপাশি ইসকনের বিরুদ্ধে মিছিলে রাস্তায় নামে ইন্তিফাদা বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনও। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ দেখায় ওই দুই সংগঠন। দাবি একটাই, নিষিদ্ধ করতে হবে ইসকনকে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে তারা এই সমাবেশ করে। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটিা বিক্ষোভ মিছিল শাপলা চত্বরের দিকে অগ্রসর হয়। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারা  দেশের বিভিন্ন মসজিদে জুমার খুতবায় ইসকনের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন ইমামরা। বিক্ষোভ সমাবেশে ইন্তিফাদা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মেহেদী হাসান, সদস্য আহমেদ রফিক ও ইসলামি বক্তা মুহাম্মদ জসীমউদ্দিন রহমানী বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ইসকন নিষিদ্ধ ঘোষণা, টঙ্গীতে ইমাম গুমের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার, গাজীপুর ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার এবং রাষ্ট্রীয় নীরবতার নিন্দা জানান।

ইন্তিফাদার নেতা আহমেদ রফিক বলেন, ‘ইসকনের বিরুদ্ধে কথা বলায় এক খতিবকে অপহরণ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় রাষ্ট্র চুপ করে আছে, প্রশাসন অপরাধীদের রক্ষা করছে। সুশীল সমাজ বা রাজনীতিবিদদের কেউই দায়িত্ব নিচ্ছে না।’

ইসলামি বক্তা, মুহাম্মদ জসীমউদ্দিন রহমানী বলেন, ‘ইসকন কোনো ধর্মীয় সংগঠন নয়, এটি ইহুদি প্রভাবিত উগ্রবাদী গোষ্ঠী, যারা একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে।’

ইন্তিফাদার নেতা ডা. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা বিচারের দাবিতে এসেছি। সরকার ন্যায়বিচার করলে আমরা শান্ত থাকব, কিন্তু বর্তমানে আমরা বিচার নয়, প্রহসন দেখছি। এমন গুরুতর ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও কোনো বক্তব্য নেই।’

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক ঘুরে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন— ‘ইসকন তুই জঙ্গি, স্বৈরাচারের সঙ্গী’, ‘জঙ্গিবাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ ইত্যাদি।

সমাবেশে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, “ইসকনের কাজ হওয়া উচিত ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা। কিন্তু তারা হিন্দুত্ববাদী কার্ড খেলে দেশ অশান্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরও তারা বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। বিশ্বের অনেক দেশেই ইসকন নিষিদ্ধ— বাংলাদেশে কেন নয়? ইসকন শুধু মুসলমানদের নয়, হিন্দুদেরও শত্রু— তারা মানবতার শত্রু। তাই অবিলম্বে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: শহীদ আলিফ হত্যার বিচার দ্রুত কার্যকর, গাজীপুরে মসজিদের খতিবকে গুম করে হত্যাচেষ্টা ও সারাদেশে মুসলিম মেয়েদের টার্গেট করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট ইসকনের নিষিদ্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘চবিয়ান দ্বীনি পরিবার’ নামের একটি সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১৩ বছরের শিশু আশা মনিকে ধর্ষণ ও মসজিদের খতিবকে গুম করে হত্যাচেষ্টা–এসবের সাথে ইসকনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। চট্টগ্রামে এ্যাডভোকেট আলিফকে হত্যা, টঙ্গীতে ইমামকে গুম করে হত্যাচেষ্টা এবং সারাদেশে অসংখ্য মুসলিম মেয়েদের ধর্ষণের ঘটনার আমরা দ্রুত বিচার দাবী করছি।

(Feed Source: zeenews.com)