Rohit-Kohli Retirement: ‘আমাদের আর…’! ‘রো-কো’র বিদায়ঘণ্টা বাজালেন রোহিতই! ভাইরাল গম্ভীরের সঙ্গে চ্যাট

Rohit-Kohli Retirement: ‘আমাদের আর…’! ‘রো-কো’র বিদায়ঘণ্টা বাজালেন রোহিতই! ভাইরাল গম্ভীরের সঙ্গে চ্যাট

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ডনের দেশে ব্যাক-টু-ব্যাক ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ হাতছাড়া করেছিলেন শুভমন গিলরা (Shubman Gill)। শনিবার অর্থাৎ আজ সিডনিতে সিরিজের শেষ তথা তৃতীয় ওডিআই ভারত ৯ উইকেটে জিতে অজিদের হোয়াইটওয়াশের মুখে ঝামা ঘষে দিল! তারা সিরিজ জিতল ২-১ ব্যবধানে। ৩-০ করতে দিলেন না রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলি (Rohit-Kohli Retirement)। আর খেলা শেষের পরেই ‘রো-কো’র বিদায়ঘণ্টা বাজালেন স্বয়ং রোহিতই!

অস্ট্রেলিয়া আর দেখবে না ‘রো-কো’ জুটি

অস্ট্রেলিয়া সিরিজই সম্ভবত বিরাট ও রোহিতের শেষ আন্তর্জাতিক আউটিং হতে চলেছে। ডনের দেশে ভারতীয় দলের দুই মহারথী পা রাখার আগে থেকেই এই মর্মে বিস্তর লেখালিখি হয়েছিল। জানা গিয়েছিল যে, জাতীয় দলের নির্বাচকরাও নাকি ঠিকই করে নিয়েছিলেন যে, ‘রো-কো’ জুটি অস্ট্রেলিয়ায় ফ্লপ হলে তাঁদের ২০২৭ বিশ্বকাপের দরজা নাকি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এদিন রোহিতই বলে দিলেন যে, সম্ভবত তাঁদের আর অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যাবে না।

খেলার শেষে রোহিত বললেন

‘অস্ট্রেলিয়ায় এসে খেলতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে। ২০০৮ সালের স্মৃতি এখনও অমলিন। জানি না, আমি আর বিরাট আর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরব কিনা। আমরা যতই প্রশংসিত হই না কেন, আমরা আমাদের ক্রিকেট উপভোগ করি। পারথে আমরা নতুন করে শুরু করেছি। আমি তো এভাবেই দেখছি। অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ।’ অস্ট্রেলিয়ায় কঠিন পরিবেশেই থাকে। ভালো মানের সব বোলার। কিছু বুঝে নিয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করতে হয়। অনেক দিন খেলিনি, তবে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। একটু আত্মবিশ্বাসী হয়েই মাঠে নেমেছিলাম। আমরা সিরিজ জিততে পারিনি ঠিকই, তবে অনেক ইতিবাচক দিক থাকবে। তরুণ দল, তাদের জন্য অনেক কিছু শেখার আছে। যখন আমি দলে আসি, তখন আমার মনে আছে সিনিয়ররা আমাদের কীভাবে সাহায্য করেছিল, এখন আমাদেরও একই কাজ করা উচিত। অস্ট্রেলিয়ায় খেলা কখনও সহজ নয়, স্রেফ বিদেশই নয়। এবার জুনিয়রদের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া উচিত। তাদের খেলার পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করা উচিত। আমি এখনও এত বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বেসিকগুলিতে ফিরে যাই। এটি এমন কিছু যা আমাকে অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমি সাধারণ ভাবে অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে ভালোবাসি। এসসিজিতে আমার একটি ভালো স্মৃতি রয়েছে। দুর্দান্ত পিচ, মাঠ এবং দর্শক। আমি যা করি তা করতে ভালোবাসি এবং আশা করি তা চালিয়ে যাব।’ রোহিত সাফ বুঝিয়ে দিলেন যে, তিনি বা কোহলি কেউই দ্রুত অবসর নিচ্ছেন না।

সাতাশের কাপযুদ্ধের টিকিট

অস্ট্রেলিয়ায় খেলার আগে গত ৯ মার্চ দুবাইয়ে ছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। দুরন্ত নিউ জিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ভারত শিরোপা জিতেছিল। তারপর দীর্ঘ ছ’মাস পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করেন বিরাট-রোহিত। রো-কো জুটিকে ফের দেশের জার্সিতে দেখতে মুখিয়ে ছিল নেটপাড়া। কিন্তু পারথে প্রথম ওডিআই-তে ২২৪ দিন পর প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি বিরাট-রোহিত। রোহিত ১৪ বলে মাত্র ৮ রান করে ফিরেছিলেন। বিরাট কোনও রানই করেনি। দ্বিতীয় ওডিআই-তে বিরাট ফের খাতা খুলতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। যদিও রোহিত ৯৭ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি এবার তাণ্ডব করবেন।  সিরিজের শেষ তথা তৃতীয় ওডিআই-তে রোহিতের সেঞ্চুরির সঙ্গেই এল কোহলির হাফ সেঞ্চুরি প্লাস ইনিংস। আপাতত রো-কো জুটি সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিলেন। বলা যেতেই পারে যে সাতাশের বিশ্বকাপে নিজেদের টিকিট কার্যত সংরক্ষণ করে ফেললেন তাঁরা।

ভিন্টেজ রো-কো

এদিন অস্ট্রেলিয়া টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ২৩৬ রান (মার্শ ৪১, রেনেশ ৫৬, হর্ষিত রানা ৪ উইকেট) তুলেছিল। জবাবে ভারত ৬৯ বল হাতে রেখে হেসে খেলে ম্যাচ বার করে নেয়। রান তাড়া করতে নেমে রোহিত ১২৫ বলে অপরাজিত ১২১ রানের ইনিংস খেলেন। কেরিয়ারের ৩৩ নম্বর ওডিআই শতরানে ১৩টি চার ও ৩টি ছয় মেরেছেন হিটম্যান’। প্রথম দুই ম্যাচে গোল্লা করে ফেরা কোহলি এদিন ৮১ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলে রানে ফিরলেন। শুভমন গিল ২৬ বলে ২৪ রান করে আউট হয়েছেন। সিডনিতে ১২১ রানের ইনিংস ও জোড়া ক্যাচে রোহিতই হয়েছেন ম্যাচের সেরা। পুরো সিরিজে ২০২ রান করার সুবাদে ‘মুম্বইয়ের রাজা’ই হয়েছেন সিরিজেরও সেরা।

ভাইরাল গম্ভীরের সঙ্গে চ্যাট

এদিন খেলার শেষে গম্ভীরের সঙ্গে রোহিতের চ্যাটও ভাইরাল হয়েছে। দলের হেড কোচকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘রোহিত সবার মনে হচ্ছিল, আজ ফেয়ারওয়েল ম্যাচ ছিল, একটা ফোটোটা লাগিয়ে দাও।’ যা শুনে রোহিত হেসে ফেলেন…

(Feed Source: zeenews.com)