Cyclone Montha Latest Updates ঘূর্ণিঝড় মন্থা এসে গেল! অন্ধ্র উপকূলে শুরু ‘ল্যান্ডফল’, পরবর্তী ৩–৪ ঘণ্টা চলবে দুর্যোগ, বাংলায় কখন?

Cyclone Montha Latest Updates ঘূর্ণিঝড় মন্থা এসে গেল! অন্ধ্র উপকূলে শুরু ‘ল্যান্ডফল’, পরবর্তী ৩–৪ ঘণ্টা চলবে দুর্যোগ, বাংলায় কখন?

Cyclone Montha Live Latest Updates আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আজ রাতেই ঘূর্ণিঝড়টি কাকিনাড়া ও মছলিপত্তনমের মাঝামাঝি অঞ্চলে তীব্র ঘূর্ণিঝড় (Severe Cyclonic Storm) হিসেবে ল্যান্ডফল করবে। উপকূলে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব আরও জোরদার হবে বলে আশঙ্কা।

প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া আর তীব্র জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় উপকূলজুড়ে টানটান সতর্কতা। প্রকৃতির ভয়াল রূপের মুখোমুখি অন্ধ্র উপকূল — আজ রাতেই মন্থার ল্যান্ডফল! পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ক্রমে শক্তি বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ (Cyclone Montha)। মঙ্গলবার বিকেল থেকে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বইছে প্রবল দমকা হাওয়া। বিশাখাপত্তনম শহরের গুরুদোয়ারা অঞ্চলে দমকা হাওয়ায় একটি বৃহৎ গাছ উপড়ে পড়ে, সামনের বাড়ির সামনে দাঁড়ানো একটি গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘মন্থা’ বর্তমানে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর সক্রিয়, এবং গত ৬ ঘণ্টায় প্রায় ঘণ্টায় ১২ কিলোমিটার বেগে এগিয়েছে।

এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র মছলিপত্তনম থেকে প্রায় ১২০ কিমি, কাকিনাড়া থেকে ২০০ কিমি, এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ২৯০ কিমি দূরে অবস্থান করছে। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ‘মন্থা’ ধীরে ধীরে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আজ মঙ্গলবার রাতেই এই ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনম ও কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলে আছড়ে পড়বে।

তখন এটি তীব্র ঘূর্ণিঝড় (Severe Cyclonic Storm) হিসেবেই ল্যান্ডফল করবে এবং এর গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ ও মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। উপকূলবর্তী সমস্ত মৎস্যজীবীদের আজকের মধ্যেই তীরে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী তিন দিন সমুদ্র অতি বিপজ্জনক থাকবে, তাই কোনও নৌকা বা ট্রলার সমুদ্রে নামতে পারবে না।

ল্যান্ডফলের পর ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং গভীর নিম্নচাপ আকারে ছত্রিশগড় পর্যন্ত অগ্রসর হবে। পরে এই নিম্নচাপটি ঝাড়খণ্ড-বিহার সংলগ্ন অঞ্চল পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

যদিও ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’-র প্রত্যক্ষ প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়বে না, তবুও এর অবশিষ্ট নিম্নচাপ অংশ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া নিয়ে আসবে বলে সতর্কতা জারি হয়েছে। জেনে নিন কোন জেলায় কেমন প্রভাব!

Cyclone Montha Latest Updates ঘূর্ণিঝড় মন্থা এসে গেল! অন্ধ্র উপকূলে শুরু ‘ল্যান্ডফল’, পরবর্তী ৩–৪ ঘণ্টা চলবে দুর্যোগ, বাংলায় কখন?

দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি হবে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলায়। এই সময় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বইবে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে প্রায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। মালদা ও উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি বৃষ্টি চলবে এবং দমকা হাওয়া বইবে।

কলকাতাতেও মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত বুধবার ও বৃহস্পতিবার শহরে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস বইবে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, “ঘূর্ণিঝড় মন্থা এখন দ্রুত অন্ধ্র উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রাজ্যের আবহাওয়া দফতর, জেলা প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে প্রশাসনিক সূত্রের খবর, উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে এবং মৎস্যজীবীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

(Feed Source: news18.com)