
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী (country’s first female Prime Minister) তিনি। ইন্দিরা গান্ধী। আজ, ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকী (Indira Gandhi Death Anniversary)। ১৯৮৪ সালের আজকের দিনে, ৩১ অক্টোবর সকালে (morning of October 31, 1984) নিহত হন লৌহ মানবী (Iron Lady) ইন্দিরা গান্ধী। নিজের দেহরক্ষীরাই তাঁকে গুলি করে হত্যা করে সেদিন। দেশ আজ গভীর শোক প্রকাশ করছে, তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছে। যথাবিহিত শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী তথা কংগ্রেসনেত্রীর স্মৃতির উদ্দেশে। আজ, এই আবহে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর (Indira Gandhi Death) সম্পর্কে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি বিশেষ তথ্য। তাঁকে যে খুন করা হবে, সেটা কি বুঝতে পেরেছিলেন তিনি? নিজের হত্যা সম্পর্কে কোনো পূর্বাভাস ছিল তাঁর কাছে?
মৃত্যুর পূর্বাভাস
মনে করা হচ্ছে, ইন্দিরা গান্ধী বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাঁকে খুন করা হবে। হত্যা সম্পর্কে কি কোনো পূর্বাভাস ছিল তার কাছে? ইন্দিরা গান্ধী তাঁর জীবনের শেষ ভাষণটি দিয়েছিলেন ভুবনেশ্বরে। ৩০ অক্টোবর। মৃত্যুর ঠিক আগের দিন। তাঁর শেষ সেই ভাষণে কী বলেছিলেন তিনি? সেই ভাষণে কিন্তু তিনি আভাস দিয়েছিলেন যে, তাঁকে আক্রমণ বা হত্যা করা হতে পারে! সত্যি? কেন একথা মনে হয়েছিল তাঁর? কীভাবে? অনেক ইতিহাসবিদ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা মনে করেন যে, ইন্দিরা গান্ধী তাঁর আসন্ন হত্যার একটি পূর্বাভাস পেয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ঠিক একদিন আগে ভুবনেশ্বরে দেওয়া শেষ ভাষণটি তাঁদের এই ধারণারই ইঙ্গিত দেয়, সেটিকে অনেকাংশে সমর্থনও করে।
ঐতিহাসিক ভুবনেশ্বর-ভাষণ
১৯৮৪ সালের ৩০ অক্টোবর, ইন্দিরা গান্ধী ভুবনেশ্বরে তাঁর জীবনের শেষ ভাষণটি দেন। সাধারণত তাঁর ভাষণ তাঁর তথ্য-উপদেষ্টা এইচ. ওয়াই. শারদা লিখতেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেই লিখিত ভাষণ থেকে সরে এসে নিজের মন থেকে কিছু কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য কংগ্রেসের নেতাদেরও স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। কী বলেছিলেন তিনি? তাঁর শেষ ভাষণের সেই কথাগুলি প্রায় ঐতিহাসিক ছিল। তিনি বলেছিলেন, “আমি আজ এখানে আছি। কাল হয়তো এখানে থাকব না। আমি থাকি বা না থাকি, তাতে আমার কোনো চিন্তা নেই। আমার জীবন দীর্ঘ ছিল এবং আমি গর্বিত যে, আমি আমার পুরো জীবন আমার জনগণের সেবায় কাটিয়েছি। আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই কাজ করে যাব। আর যখন আমি মারা যাব, তখন আমার রক্তের প্রতিটি ফোঁটা ভারতকে শক্তিশালী করতে কাজে লাগবে।”
শঙ্কিত কংগ্রেস
তাঁর এই কথা শুনে সেদিন সেই সভায় উপস্থিত কংগ্রেস নেতারা হতবাক হয়ে যান। তাঁরা বুঝতে পারেননি, ঠিক কী কারণে ইন্দিরা গান্ধী এমন কথা বললেন। এটা কি কোনও এক অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছে?
৩০-এর অস্থির রাত
ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ এবং কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী তাঁর বইতে সেই রাতের ঘটনার উল্লেখ করেছেন। তিনি লেখেন, ৩০ অক্টোবর, ১৯৮৪ সালের রাতে ভুবনেশ্বর থেকে ফেরার পরে ইন্দিরা গান্ধী ভালো করে ঘুমোতে পারেননি। সোনিয়া গান্ধী যখন তাঁর হাঁপানির ওষুধ নিতে ওঠেন, তখন দেখেন ইন্দিরা গান্ধীও জেগে আছেন। ইন্দিরা তাঁকে বলেন, রাতে কোনো সমস্যা হলে যেন তাঁকে ডাকা হয়। কী সমস্যা? কীসের ইঙ্গিত সেটা? তখন থেকেই কি ইন্দিরার মন কু গাইছিল?
৩১-এর শান্ত সকাল
পরের দিন, অর্থাৎ, ৩১ অক্টোবর সকালে বিদেশ থেকে আসা একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল ইন্দিরা গান্ধীর। প্রতিনিধি দলটি একটি তথ্যচিত্রের জন্য তাঁর সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিল। সকাল ৯টা নাগাদ ইন্দিরা গান্ধী তাঁর বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি যখন সফদরজং রোড এবং আকবর রোডের সংযোগকারী গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখন সেখানে সাব-ইন্সপেক্টর বিয়ন্ত সিং এবং কনস্টেবল সতবন্ত সিং ডিউটিতে ছিলেন। তিনি কাছে আসতেই দু’জন হাতজোড় করে তাঁকে নমস্কার করেন। ইন্দিরা গান্ধীও তাঁদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড
কিন্তু পরমুহূর্তেই বিয়ন্ত সিং তাঁর সরকারি রিভলভার বের করে ইন্দিরা গান্ধীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন। গুলি খেয়ে ইন্দিরা গান্ধী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর সতবন্ত সিং তাঁর স্টেনগান থেকে পুরো ম্যাগাজিনের গুলি ইন্দিরা গান্ধীর শরীরে ছোঁড়েন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধীকে দ্রুত দিল্লির এইমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর শেষ ভাষণের সেই কথাগুলি যেন সেদিন মর্মান্তিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছিল।
(Feed Source: zeenews.com)
