)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের মহিলা ক্রিকেটাররা (India’s Female Cricketers) মাঠের ভেতরে এবং বাইরে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে চলেছেন। ২০২৩ সাল থেকে এই ২০২৫ সাল যেন একটা জার্নি– বিরল জার্নি! ২০২৩ সাল থেকেই ভারতের মেয়েদের ক্রিকেট যেন এক অন্য ভুবনে বিচরণ করেছে। তবে এবারের এই বিশ্বকাপ জয় (India’s women’s World Cup Win) মিতালি রাজ, স্মৃতি মান্ধানা, হরমনপ্রীত কউরের মতো নামগুলি বাঙালি তথা ভারতীয়রা এখন চায়ের কাপে তুফান তুলে আলোচনা করেন। অনেকরকম সে আলোচনা। তবে তার একটা বড় অংশ ঘোরাফেরা করে এই সব তারকার চুক্তি, বিজ্ঞাপন এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে করা তাঁদের বিপুল উপার্জন।
আবেগ, স্বপ্ন
ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জয় নিছক এক ম্যাচ-জয়ই নয়, তা একটা মাইলস্টোন গড়া, আবেগের পূর্ণতার শিখরস্পর্শ, স্বপ্নের কাছে পৌঁছে যাওয়া। বিশ্বক্রীড়া মানচিত্রে নিজের জন্য এক বিশেষ জায়গা তৈরি করে ফেলা।
যখন ভারতের মহিলাদল ট্রফিটি তুলে ধরল, তখন দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই মহিলাদের জয় উদযাপন করছিল। এই জয় এটাও তুলে ধরেছে যে, মহিলাদের ক্রিকেট শুধুমাত্র অর্জনের দিক থেকেই নয়, উপার্জনের দিক থেকেও কতটা এগিয়ে গিয়েছে! কতটা এগিয়েছে? আসুন একটু দেখে নেওয়া যাক!
মিতালি রাজ
যোধপুরে ৩ ডিসেম্বর ১৯৮২ সালে একটি তামিল পরিবারে জন্ম মিতালির। তাঁর বাবা ভারতীয় বিমান বাহিনীতে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কাজ করতেন। মা লীলা রাজ শুরু থেকেই মেয়ের স্বপ্নের পাশে পাশে থেকেছেন। মিতালি মাত্র ১০ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে মিতালি অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন। মনে করা হয়, মিতালি ভারতের মহিলাদের ক্রিকেটে এক বিরাট পরিবর্তন আনেন। মিতালিই মহিলাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। অনুমান করা হয় তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকার মতো। ভারতের সবচেয়ে ধনী মহিলা ক্রিকেটার তিনি! অবসর নেওয়ার পরেও তিনি ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট, মেন্টরশিপ এবং ক্রিকেট উন্নয়ন উদ্যোগগুলিতে যুক্ত থেকে নিয়মিত বিপুল টাকা উপার্জন করে চলেছেন।
স্মৃতি মান্ধানা
২৯ বছরের স্মৃতি মান্ধানা নিজেই একটি ব্র্যান্ড। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ অনুমান করা হয় ৩২ থেকে ৩৪ কোটি টাকার মতো। যার মধ্যে আছে ক্রিকেট থেকে উপার্জন, বিজ্ঞাপন এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে আসা টাকাও। স্মৃতি বাৎসরিক ৫০ লক্ষ টাকার একটি গ্রেড এ বিসিসিআই চুক্তি ধরে রেখেছেন। উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (WPL) থেকে ৩.৪ কোটি টাকা উপার্জন তাঁর। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর নেতৃত্ব দেওয়া স্মৃতি ভারতীয় খেলার দুনিয়ায় একটা নতুন ফেনোমেনন যেন।
হরমনপ্রীত কউর
ভারতকে তার প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার পরে হরমনপ্রীত কউর নামটি এখন সারা দেশে শ্রদ্ধা আবেগ ও ভালেবাসার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি টাকা। যা শুধুমাত্র তাঁর ক্রিকেট সাফল্যের প্রতিফলন নয়, তাঁর ক্রমশ বাড়তে থাকা ব্র্যান্ড ভ্যালুরও ইঙ্গিত। হরমনপ্রীত তাঁর বিসিসিআই গ্রেড এ চুক্তি থেকে বছরে ৫০ লক্ষ টাকা আয় করেন। ওদিকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স থেকে প্রতি সিজনে ১.৮ কোটি টাকা উপার্জন তাঁর। তিনি পঞ্জাবে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিস (DSP)। বিভিন্ন এনডোর্সমেন্টগুলি তাঁর সম্পদের একটি বড় অংশ। পিউমা (PUMA), সিইএটি (CEAT), এইচডিএফসি লাইফ (HDFC Life) এবং বুস্ট (Boost)-এর থেকে বছরে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় তাঁর।
তারকার উত্থান এবং
এই সব তারকার উত্থান দেখায়, ভারতে মহিলাদের ক্রিকেট কতটা এগিয়েছে। ডব্লিউপিএল এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সঙ্গে আর্থিক স্থিতিশীলতা এখন আর স্বপ্ন নয়। বরং অনেক খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে সেটা বাস্তবতা।
(Feed Source: zeenews.com)
