
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কেরালার মঞ্জেরিতে বিশেষ পকসো (POCSO) আদালত মঙ্গলবার এক নাবালিকা বালিকাকে বারবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক দম্পতিকে ১৮০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
মামলার অভিযুক্ত মহিলা ও তার প্রেমিক ও ১১ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে মালপ্পুরমে পালিয়ে গিয়েছিল ভয়ংকর অপরাধ করার পর। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে লাগাতার শারীরিক ও মানসিক ও যৌন অত্যাচার করেছে তাদের মেয়ের সঙ্গে ওই দম্পতি।
এএনআই সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে,কারাবাস ছাড়াও, দম্পতির ১১.৭৫ লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে এবং জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের অতিরিক্ত ২০ বছরের জেল হবে।
বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি সোমাসুন্দরাম সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘আজ আদালত উভয় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৮০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১১.৭৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে।’
সোমাসুন্দরাম আরও জানান, ‘এই মামলাটি মা এবং তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে মালপ্পুরম পুলিসে নথিভুক্ত হয়েছিল। মূলত তিরুবনন্তপুরমের বাসিন্দা মা, তার প্রেমিক এবং ১১ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে মালপ্পুরমে পালিয়ে যান, সেখানে তারা একটি ভাড়া কটেজে থাকত। মায়ের সাহায্য ও সহযোগিতায় তার প্রেমিক ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দুই বছর ধরে ছোট মেয়েটিকে যৌন নির্যাতন করে। তিনি শুধু তাকে ধর্ষণই করেননি, তাকে ওরাল সেক্সেও বাধ্য করেন।’
বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক আশরাফ এএম ইন্ডিয়ান প্যানেল কোড (IPC), প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস (POCSO) আইন এবং জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট (JJ Act)-এর বিভিন্ন ধারায় এই রায় দেন। প্রসিকিউশন জানায় যে, মেয়েটির সৎ-বাবা তাকে ভয় দেখিয়েছিল যে তার মাথায় একটি লুকানো ক্যামেরা বসানো আছে এবং নির্যাতনের কথা প্রকাশ করার চেষ্টা করলে তা ধরা পড়বে। কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের আগে মদও দেওয়া হয়েছিল।
প্রসিকিউশন অনুসারে, পালক্কাডের বাসিন্দা প্রথম অভিযুক্ত ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আনামাঙ্গাদ এবং ভাল্লিকাট্টার ভাড়া বাড়িতে বারবার কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করেছিল। তিরুবনন্তপুরমের বাসিন্দা দ্বিতীয় অভিযুক্ত, মেয়েটির মা, এই অন্যায়কে সাহায্য, প্ররোচনা ও উৎসাহিত করার জন্য অভিযুক্ত।
অভিযুক্ত মহিলা অর্থাত্ নির্যাতিতার মা, তার স্বামীকে ছেড়ে তার সঙ্গীর সঙ্গে থাকতে শুরু করার পরই ২০১৯ সালে এই নির্যাতন শুরু হয়।
কৌঁসুলি বলেন, ‘উভয় অভিযুক্ত মেয়েটির উপস্থিতিতেও যৌন মিলন করত। তারা পকসো আইন এবং জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট অনুসারে অপরাধ করেছে। আদালত এখন উভয় অভিযুক্তকে ১৮০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১১.৭৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে।’
কৌঁসুলি আরও বলেন, ‘অভিযুক্তরা আদালতে এই অর্থ জমা দিলে তা নাবালিকা শিশুকে দেওয়া হবে। তাদের ১৮০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে পাঠানো হলেও, তাদের ৪০ বছর জেলে থাকতে হবে।’
আইপিসি, পকসো আইন এবং জেজে অ্যাক্টের একাধিক ধারায় মামলাটির তদন্ত করা হয়েছিল। রাজিয়া বাঙালথ ছিলেন প্রধান তদন্তকারী এবং বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি এ সোমাসুন্দরণ প্রসিকিউশনের প্রতিনিধিত্ব করেন। উভয় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে তাদের সাজা ভোগ করার জন্য তাভানুর জেলে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
