India-Pakistan: ‘খ্রিস্টান-ইহুদি-হিন্দু বোমা আছে, তবে মুসলিম বোমা…’ পাক পরমাণু টার্গেটে ভারত! বিস্ফোরক তথ্যে ধেয়ে এল সুনামি…

India-Pakistan: ‘খ্রিস্টান-ইহুদি-হিন্দু বোমা আছে, তবে মুসলিম বোমা…’ পাক পরমাণু টার্গেটে ভারত! বিস্ফোরক তথ্যে ধেয়ে এল সুনামি…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম সম্পর্কে প্রাক্তন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র (CIA) আধিকারিক রিচার্ড বার্লো (Richard Barlow) পরপর চাঞ্চল্যকর সব দাবি তুললেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সিআইএ-তে কর্মরত বার্লো বলেছেন যে, আমেরিকা কেবল পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি অন্ধই ছিল না বরং সাহায্যও করেছিল। বার্লোর দাবি পাকিস্তান প্রথমে ভারত-বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেছিল কিন্তু পরে তাদের বোমাটিকে ইসলামিক বোমা বলে ঘোষণা করেছিল। বার্লো আরও জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার সাইটগুলিতে আক্রমণ করার পরিকল্পনা ছিল ইসরায়েল এবং ভারতের।

এফ-সিক্সটিনে পরমাণু বোমা!

সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাত্‍কারে বার্লোর দাবি যে, ১৯৯০ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা পাকিস্তানের এফ-সিক্সটিন বিমানগুলিতে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে দেখেছে। বার্লো বলেন, ‘আমরা নিঃসন্দেহে জানতাম যে, পাকিস্তানের এফ-সিক্সটিন বিমানগুলি পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে। আমরা নিজেরাই এটা হতে দেখেছি।’ বার্লোর যুক্তি, আফগানিস্তানে সোভিয়েত আক্রমণের বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াইয়ে (১৯৭৯-১৯৮৯) পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হয়ে ওঠার কারণে, পাকিস্তানকে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখেনি আমেরিকা। তিনি আরও বলেন যে, ওয়াশিংটনের কর্তারা কাহুতা নিউক্লিয়ার প্লান্টে বিজ্ঞানী আবদুল কাদের খান ওরফে একিউ খানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন হয়েছিলেন।

কে এই বিজ্ঞানী একিউ খান?

পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির জনক ছিলেন পরমাণু বিজ্ঞানী এবং ধাতুবিদ্যা প্রকৌশলী ডঃ একিউ. খান। পাকিস্তানের সমন্বিত পারমাণবিক বোমা প্রকল্পের জন্য এইচইইউ ভিত্তিক গ্যাস-সেন্ট্রিফিউস ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ প্রোগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে গণ্য করা হয়। ১৯৭৬ সালে তিনি খান গবেষণা পরিক্ষাগারসমূহ (কেআরএল) প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০১ সালে অবসর হওয়ার পর্যন্ত তিনি একজন সাধারণ পরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন বিজ্ঞানী ছিলেন এবং অন্যান্য বিজ্ঞান প্রকল্পে তিনি একটি প্রাথমিক এবং প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। পারমাণবিক বোমা প্রকল্পে অংশগ্রহণ ছাড়াও আণবিক অঙ্গসংস্থানবিদ্যা, বাস্তব মারটেনসাইট এবং তার সমন্বিত ঘনীভূত এবং উপাদান পদার্থবিদ্যা-তে অবদান রাখেন।

ইন্দিরা গান্ধী সম্পর্কে বার্লোর মত

বার্লোর দাবি, আটের দশকের গোড়ার দিকে ভারত এবং ইসরায়েল, পাকিস্তানের কাহুতা প্ল্যান্টে যৌথভাবে বোমা হামলা চালিয়ে ইসলামাবাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নিরস্ত করতে পারত। এই প্রস্তাবিত যৌথ গোপন অভিযান অনেক সমস্যার সমাধান করত। ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সরকার এর জন্য প্রস্তুত ছিল না! বার্লো সাক্ষাত্‍কারে বলেন, ‘এটা দুঃখের বিষয় যে ইন্দিরা গান্ধী এই পারমাণবিক আক্রমণ অনুমোদন করেননি, এটি অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারত’! কাহুতা নিউক্লিয়ার প্লান্টটি পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের সফল অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। যার সমাপ্তি ঘটে ১৯৯৮ সালে ইসলামাবাদের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষায়। বার্লো আরও দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে পাকিস্তানের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ভারতের মোকাবিলা করা। তবে, ইসলামাবাদের একিউ খানেরে নেতৃত্বে একটি ‘ইসলামি বোমা’-তে রূপান্তরিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল ইরান-সহ অন্যান্য ইসলামিক দেশে প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং বিতরণ করা। বার্লোর সংযোজন, ‘আমার মনে হয় একিউ. খান একবার বলেছিলেন, ‘আমাদের কাছে একটি খ্রিস্টান বোমা আছে, আমাদের কাছে একটি ইহুদি বোমা আছে, এবং আমাদের কাছে একটি হিন্দু বোমাও আছে। আমাদের মুসলিম বোমা দরকার। ‘ এটা আমার কাছে বেশ স্পষ্ট যে, পাকিস্তান অন্যান্য মুসলিম দেশগুলিকে পারমাণবিক অস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহ করতে চেয়েছিল, এবং তাই ঘটেছে।’ বার্লোর দাবিতে স্পষ্ট যে ঠিক কী ঘটেছিল নয়ের দশকে।

(Feed Source: zeenews.com)