
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা আগ্রহারা সেন্ট্রাল জেল আবারও বিতর্কে। জেলের ভিতর খুল্লমখুল্লা ফোন ব্যবহার করছে আসামিরা। শুধু তাই নয়, তারা আয়েস করে বসে টিভি দেখছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিয়ো ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। তাতেই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, কুখ্যাত আসামিরা যাদের মধ্যে রয়েছে তেলেগু অভিনেতা তরুণ- যিনি যিনি সোনা পাচার মামলার অভিযুক্ত, আইএস নিয়োগদাতা জুহাদ হামিদ শাকিল মান্না, ও সিরিয়াল ধর্ষক-খুনি উমেশ রেড্ডি।
এরা সবাই জেলের ভেতর মোবাইল ব্যবহার করছেন ও আরামে সময় কাটাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, শাকিল মান্না বাইরে থাকা সহযোগীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছিলেন। ভিডিয়োগুলো প্রকাশের পর কারাগারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই ও দোষীদের চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Undated videos have surfaced showing jail inmates using mobile phones and watching TV inside #Bengaluru’s #ParappanaAgrahara Central Jail. pic.twitter.com/pFZK4rMR6l
— Hate Detector (@HateDetectors) November 8, 2025
এর আগেও এই একই জেল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। গত অক্টোবর মাসে ‘গুব্বাচি সীনা’ নামে পরিচিত এক কুখ্যাত অপরাধী শ্রীনিবাসের জেলের ভেতর জন্মদিন পালন করার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল। খুনের মামলায় অভিযুক্ত শ্রীনিবাসকে দেখা গিয়েছে কেক কাটতে এবং গলায় আপেলের মালা পরে সহবন্দিদের সঙ্গে উদযাপন করতে। মোবাইল ফোনে করা ওই ভিডিয়ো ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর আবারও জেলের নিরাপত্তা ও দায়িত্বহীনতার বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে।
গত বছরও কন্নড় অভিনেতা দর্শন থুগুদীপের একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে দেখা যায় তিনি রেনুকাস্বামী হত্যা মামলায় জেলে থাকলেও ভিআইপি সুবিধা পাচ্ছেন- চেয়ারে বসে হাতে সিগারেট ও কফির মগ নিয়ে অন্য বন্দিদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন।
কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পারমেশ্বর বলেছেন, এমন ঘটনা একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে তিনি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা চলতে দেওয়া যাবে না। যদি এমন চলতেই থাকে, তাহলে এটাকে আর জেল বলা যাবে না। আমি সিনিয়র পুলিস কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করব এবং কঠোর ব্যবস্থা নেব। আমি ইতিমধ্যে রিপোর্ট চেয়েছি; যদি তা সন্তোষজনক না হয়, তাহলে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। রিপোর্টে যদি স্পষ্টতা না থাকে, আলাদা তদন্ত করা হবে। কেউ সন্ত্রাসী হোক বা অন্য কেউ জেলে ফোন ব্যবহার করতে পারবে না।’
(Feed Source: zeenews.com)
