
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার (Delhi Red Fort Blast) সামনে সোমবার সন্ধেয় ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Blast) কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি গাড়ি। আর সেই গাড়ি নিয়েই এখন চর্চা। সূত্রের খবর, ওই গাড়িটি সম্ভবত হরিয়ানার রেজিস্ট্রেশন করা (Haryana Registration) একটি হুন্ডাই আই১০ (Hyundai i20)। গাড়িটির মালিকের নাম নাদিম। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে বলছেন, সেটি মারুতি সুজুকির (Maruti Suzuki) কোনও গাড়ি ছিল। পুলওয়ামা হামলার দিন এই গাড়ি বিক্রি করা হয়েছিল। অর্থাত্ এই দিল্লি বিস্ফোরণে পুলওয়ামা যোগ। জাল নথি ব্যাবহার করা হয়েছিল এই গাড়ি কিনতে।

সালমান হল গাড়ির বর্তমান মালিক। গাড়িটি ওখলায় বিক্রি করা হয়েছিল। পুলিস গাড়ির পুরোনো মালিকের কাছে পৌঁছেছে। এবার ওখলায় যিনি গাড়িটি কিনেছিলেন, সেখানে আরও তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। গুরুগ্রাম পুলিস মহম্মদ সালমানকে হেফাজতে (detain) নিয়েছে। গুরুগ্রামে এই গাড়ির মালিককে শনাক্ত করা হয়েছে। মহম্মদ সালমান গাড়িটি দেবেন্দ্র নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছিলেন এবং গুরুগ্রাম পুলিস মোহাম্মদ সালমানকে আটক করেছে।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশেপাশের ২২টি গাড়ি, এমনকী একটি ই-রিকশাও আগুনে পুড়ে যায়।
দিল্লির পুলিস কমিশনার জানান, এদিন সন্ধে ৬টা ৫২ মিনিটে ওই রাস্তায় লালবাতি (Red Light) থাকায় ওই গাড়িটি থেমে গেছিল। তবে মুহূর্তের মধ্যে সেই গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে বিস্ফোরণ স্থলে কোনো গর্তের চিহ্ন নেই বলেই পুলিস জানিয়েছে।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে বিস্ফোরণস্থলে কোনো স্প্লিন্টারের আঘাত বা গর্ত তৈরি হয়নি।
একজন পুলিস কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আহত ব্যক্তিদের শরীরে স্প্লিন্টারের ক্ষত নেই, এবং ঘটনাস্থলে কোনো গর্তও তৈরি হয়নি। তবে বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশেপাশের গাড়িগুলো পুরোপুরি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।’ বিস্ফোরণ স্থলে RDX-এর কোনো গন্ধ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে বিস্ফোরণটি এত জোরালো ছিল যে প্রথমে এটিকে একটি সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে হয়েছিল—কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে এই স্থানটি সম্ভবত হামলার আসল লক্ষ্য ছিল না। হয়তো বিস্ফোরক দ্রব্য পরিবহন করা হচ্ছিল, অথবা আসল লক্ষ্য অন্য কোথাও ছিল।
দিল্লি পুলিসের প্রধান সতীশ গোলচা বলেছেন যে সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিট নাগাদ একটি ধীর গতিতে চলা গাড়ি লাল কেল্লার কাছে লাল বাতিতে এসে থেমেছিল। গোলচা বলেন, ‘ওই গাড়িতে একটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেই বিস্ফোরণের কারণে আশেপাশের গাড়িগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ দিল্লির এই বিস্ফোরণের ফলস্বরূপ জাতীয় রাজধানী, মুম্বাই এবং কলকাতায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিস এ ব্যাপারে হরিয়ানা পুলিসর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। দিল্লি পুলিসের একটি দল হরিয়ানায় পৌঁছে গিয়েছে। বিস্ফোরণের নেপথ্যে নাশকতা জড়িয়ে রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আত্মঘাতী বোমা হামলার তত্ত্বও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
বিস্ফোরণের পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকলের অন্তত ২০টি ইঞ্জিন। দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তার পরেই ঘটনাস্থলে একে একে পৌঁছোয় এনএসজি, এনআইএ, ফরেন্সিক দল। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করার কাজ চলছে।
(Feed Source: zeenews.com)
