Al-Falah University: ৭০ একর ক্যাম্পাস, ৭৪ লক্ষ MBBS ফি! দিল্লি বিস্ফোরণের পর চর্চায় আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়…

Al-Falah University: ৭০ একর ক্যাম্পাস, ৭৪ লক্ষ MBBS ফি! দিল্লি বিস্ফোরণের পর চর্চায় আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নয়াদিল্লির লালকেল্লার সামনে, গত সোম সন্ধ্যায় সিগন্যালে দাঁড়ানো, একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে ভয়ংকর আইডি বিস্ফোরণ ঘটায় (Delhi Blast) এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আর এই ঘটনায় রীতিমতো বুক কেঁপে গিয়েছে দেশের। আর বিগত কয়েক দিন চর্চায় আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al-Falah University)। হরিয়ানা-দিল্লি সীমান্ত থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান,আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ফরিদাবাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগসূত্রেই উদ্ধার হয়েছে কেজি কেজি বিস্ফোরক আর একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র।

চর্চায় আল-ফালাহ

বিগত কয়েকদিন ফরিদাবাদের ধৌজে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রচুর পুলিস ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সেখানকার ৫২ জন ডাক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ডঃ মুজাম্মিল শাকিল, ডঃ শাহিন শহীদ এবং ডঃ উমর মহম্মদ সম্পর্কে তথ্য খুঁজছেন। সন্দেহভাজনরা জৈশ-ই-মোহাম্মদের এক সন্ত্রাসী মডিউল পরিচালনা করছিল বলেই অভিযোগ! যাদের থেকে বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তারা দিল্লিতে বিরাট হামলার পরিকল্পনা করছিল। এই মডিউলটি পুরনো দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণের সঙ্গেও যুক্ত বলে জানা গিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতি

বিশ্ববিদ্যালয় বিস্ফোরণের ‘বিভ্রান্তিকর গল্প’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ঘটনার পর ‘মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ’ অস্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও সম্পর্ক নেই, শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের পেশাদার যোগসূত্র ছাড়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনও সন্দেহজনক রাসায়নিক পদার্থ নেই, যা কিছু প্রতিবেদনের বিপরীত। আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) ভূপিন্দর কৌর আনন্দ বলেছেন যে ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় গভীর ভাবে শোকাহত এবং মর্মাহত এবং আমরা এর নিন্দা করছি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল নিরাপরাধ মানুষের প্রতি আমাদের সমবেদনা এবং প্রার্থনা। আমরা আরও জানতে পেরেছি যে, আমাদের দুই চিকিৎসককে তদন্তকারী সংস্থাগুলি আটক করেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁদের সরকারি পদে কর্মরত থাকা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনও সম্পর্ক নেই।’

৭০ একর ক্যাম্পাস

৭০ একরেরও বেশি জমি জুড়ে অবস্থিত আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৪ সালে যা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরের বছর উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি আল-ফালাহ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অধীনে। যা ১৯৯৫ সালে গঠিত হয়েছিল এবং ১৯৯৭ সালে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, মানবিকতা, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং শিক্ষা সহ অন্যান্য বিষয় পড়ানো হয়।

৭৪ লক্ষ MBBS ফি

আল-ফালাহ স্কুল অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ২০১৯ সাল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি দিয়ে আসছে। মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে ৬৫০ শয্যা বিশিষ্ট এক হাসপাতালও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট অনুসারে, এটি এমবিবিএস কোর্সের জন্য ২০০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টি কোর্সের প্রথম চার বছরের জন্য ১৬.৩৭ লক্ষ টাকা এবং শেষ বছরের জন্য ৯ লক্ষ টাকা নেয়। পুরো কোর্সের জন্য এটি মোট ৭৪.৫০ লক্ষ টাকা নেয়। হোস্টেলে প্রতি বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি ৩ লক্ষ টাকা নেয়। আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাশ্মীরি শিক্ষার্থী রয়েছে। অনুমান অনুসারে ৪০ শতাংশ।

বিস্ফোরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়

ফরিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধারের পর আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। ক্যাম্পাসের বাইরে আল-ফালাহ স্কুল অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত একজন ডাক্তার মুজাম্মিলের ভাড়া করা ঘর থেকে প্রায় ২৯০০ কেজি বোমা তৈরির উপাদান হিসেবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট পাওয়া গিয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের আরেক ডাক্তার শাহীনের গাড়িতে অ্যাসল্ট রাইফেল এবং অন্যান্য অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে। তারপরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরেই লাল কেল্লার কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। রিপোর্ট অনুসারে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ডাঃ উমর, যিনি আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

(Feed Source: zeenews.com)