
পুরনো সোনার গয়না ভেঙে নতুন গয়না তৈরি করতে তাঁর দোকানে আসতেন গ্রাহকরা। বহু বছর ধরে এলাকার মানুষ বিশ্বাস করে তাঁর দোকানে পুরনো গয়না জমা দিতেন।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দোকান
এগরা, মদন মাইতি: পুরনো সোনার গয়না ভেঙে নতুন গয়না তৈরি করতে তাঁর দোকানে আসতেন গ্রাহকরা। বহু বছর ধরে এলাকার মানুষ বিশ্বাস করে তাঁর দোকানে পুরনো গয়না জমা দিতেন। তাঁদের কাছ থেকে পুরনো সোনার গয়না নিতেন তিনি। তারপর নতুন গয়না তৈরির জন্য সময় নিতেন কিছুটা। অনেকেই ভাবতেন, গয়না তৈরিতে সময় লাগে, তাই কিছুটা দেরি হচ্ছে। কিন্তু দিনের পর দিন কেটে গেলেও গ্রাহকরা নতুন গয়না পাননি। অগ্রিম টাকাও ফেরত পাননি।
ওই স্বর্ণব্যবসায়ীর কাছে গেলেই বলতেন, “আর কয়েকদিন পরই নতুন গয়না দেব।” এইভাবে মাসের পর মাস কেটে গিয়েছে। অবশেষে দোকান বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন ওই স্বর্ণব্যবসায়ী। চিন্তায় পড়েছেন গ্রাহকরা। তাঁর বিরুদ্ধে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক ওই স্বর্ণব্যবসায়ীর নাম শেখ সাক্তার। গ্রাহকদের কোটি টাকা মূল্যের সোনার গয়না ও নগদ টাকা হাতিয়ে পালানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। হুগলির চণ্ডীতলা এলাকার পূর্ব ভগবতীপুরের বাসিন্দা তিনি। অভিযোগ, শেখ সাক্তার গত চার বছর ধরে এগরার জেড়থান এলাকায় এসে স্বর্ণ ব্যবসা শুরু করেন তিনি। প্রথমে খুবই ভাল ব্যবহার করে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ক্রমে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন। সেই সুযোগেই চলতে থাকে তাঁর প্রতারণার খেলা।
স্থানীয় অনেকেই তাঁর কাছে পুরনো গয়না দিয়ে নতুন গয়না বানানোর জন্য দেন। কেউ কেউ অগ্রিম টাকা জমাও রাখেন। কিন্তু সময় মতো নতুন গয়না তো দূরের কথা, পুরনো গয়নাও ফেরত দেননি তিনি। বহু গ্রাহকই এখন দিশেহারা। দীর্ঘ চার বছর ধরে ভাড়া দোকানে ব্যবসা করছিলেন ওই ব্যবসায়ী। অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা মূল্যের গহনা নিয়েও তিনি নতুন গহনা বানিয়ে দেননি। এমনকি মজুরি বাবদ যে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন, তাও ফেরত দেননি। গত কয়েকদিন ধরেই তিনি দোকান খুলছেন না। ফোনেও বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না ওই ব্যবসায়ীকে। দোকানটিও এখন বন্ধ অবস্থায়। কোটি কোটি টাকার গহনা না ফেরত পেয়ে দিশাহারা গ্রাহক। চিন্তায় পড়েছেন তারা। অবশেষে এলাকাবাসী বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছেন।
প্রতারিত হয়ে থানায় দ্বারস্থ হন তারা। থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এগরা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, পলাতক স্বর্ণব্যবসায়ী শেখ সাক্তারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, যত দ্রুত সম্ভব ওই প্রতারক ব্যবসায়ীকে খোঁজে বের করা হোক এবং তাঁদের সোনা ও টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এগরা এলাকায়।
