জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আগামী ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ সালের আইপিএল নিলাম (IPL 2026 Auction) হবে আবু ধাবিতে (Abu Dhabi)। আগামী বছর আইপিএল ১৫ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর এখন চলছে ভরপুর ট্রেডিংয়ের মরসুম। জার্সিবদলের একেবারে গরমাগরম বাজারে আসছে একের পর এক আপডেট।
শামি এলেন লখনউয়ে!
এবার নিলামের আগে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (Sunrisers Hyderabad, SRH) থেকে অভিজ্ঞ ভারতীয় পেসার মহম্মদ শামিকে (Mohammed Shami) লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants, LSG) ট্রেড করল। চলতি বছর শামি ছিলেন অরেঞ্জ আর্মিতে। দেখতে গেলে চলতি ট্রেডিংয়ে শামিই দ্বিতীয় সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রেড। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে ১০ কোটি টাকায় নিয়ে এসেছে নবাবের শহরে। বর্তমান পারিশ্রমিকেই লখনউতে এসেছেন শামি।
শামির আইপিএল কেরিয়ার
অভিজ্ঞ শামির আইপিএলেও রয়েছে প্রচুর অভিজ্ঞতা। তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স (২০১৩-১৪) দিয়ে শুরু করে দিল্লি ক্যাপিটালস (২০১৬-১৮) পঞ্জাব কিংস (২০১৯-২১), গুজরাত টাইটান্স (২০২২-২৩) এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (২০২৫) মিলিয়ে মোট ৫ ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ১১৯ ম্যাচ খেলে ১৩৩ উইকেট নিয়েছেন। লিগে তাঁর গড় ২৮.১৮। সেরা পরিসংখ্যান ৪/১১। হায়দরাবাদে নাম লেখোনোর আগে শামি গুজরাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। ২০২২ সালে আইপিএল অভিষেকেই শিরোপ জিতেছিল গুজরাত। শামি সেবার ১৬ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে গুজরাত রানার্স হয়। শামি সেবারও ছিলেন আগুনে ফর্মে। ১৭ ম্যাচে ২৮ উইকেট নিয়ে পার্পল ক্যাপও জিতেছিলেন। যদিও চোটের কারণে ২০২৪ মরসুমের পুরোটাই মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। শামির চলতি বছর হায়দরাবাদের হয়ে খুবই খারাপ খেলেছিলেন। ৫৬.১৬-র গড়ে মাত্র ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। অন্যদিকে ১১.২৩ রানের ইকোনমি রেটে রান দিয়েছিলেন। তাঁর সেরা পরিসংখ্যান ছিল ২/২৮, শামিকে টিমে পেয়ে খুশি লখনউয়ের কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। শামির সঙ্গে ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘মুসকুরাইয়ে, আপ লখনউ মে হ্যায়…’ সুপার জায়ান্টস পরিবারে স্বাগতম।’
ভারতীয় দলের ব্রাত্য মহাতারকা
গত মার্চ মাসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকে শামি আর ভারতের হয়ে খেলেললনি। তাঁর পারফরম্যান্স ভালো থাকা সত্ত্বেও নির্বাচক কমিটি তাঁকে এড়িয়ে যাওয়ায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফিতেও শামি জায়গা পাননি। সেই সময়ে মিডিয়াতে লেখা হয়েছিল, যে ইংরেজদের বিরুদ্ধে দল নির্বাচনের আগে আগরকরের নেতৃত্বাধীন বিসিসিআই নির্বাচক কমিটি, শামির সঙ্গে নাকি পরামর্শও করেছিল। তবে শামি নিজে তাঁর ফিটনেস নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের পাঁচ ম্যাচের সিরিজেও শামি ছিলেন না। সেবারও ইংল্যান্ডের মতোই ফিটনেস নিয়ে সন্দিহান ছিলেন তিনি। এশিয়া কাপেও ছিলেন না শামি। অস্ট্রেলিয়ায় ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টিআই স্কোয়াডেও রাখা হয়নি তাঁকে! চলতি ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেরও কোনও সংস্করণে নেই তিনি। অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দল নির্বাচনের আগেই শামি রঞ্জি মাতিয়েছিলেন। তিন ম্যাচে মোট ৯১ ওভার বল করেছেন। ১৫ উইকেট নিয়ে বাংলাকে পরপর জয় এনে দিতে সাহায্য করেন।
মিনি নিলাম
অন্যান্য মিনি নিলামের মতো, ২০২৬ সালের আসরটিও একদিন ব্যাপী হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে আগামী ১৫ নভেম্বর ভারতীয় সময় বিকেল ৩টের মধ্যে তাদের রিটেনশন লিস্ট জমা দিতে হবে বিসিসিআই-কে। মানে আগামী মরসুমের জন্য খেলোয়াড় ধরা-ছাড়ার চূড়ান্ত তালিকা দিতে হবে। এরপর তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের একটি পুল পাঠানো হবে। নিলাম পুল চূড়ান্ত করার জন্য আইপিএলের জন্য সেই দীর্ঘ তালিকাটি ছাঁটাই করা হবে। ২০২৫ মরসুমের পরেই ট্রেডিং উইন্ডো খুলে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের আইপিএল নিলাম শুরুর শুরু হওয়ার এক মাস আগে পর্যন্ত চলবে। তারপর নিলাম হয়ে যাওয়ার পর আইপিএল শুরু হওয়ার এক মাস আগে পর্যন্ত চলবে। ১০ ফ্র্যাঞ্চাইজি ২০২৬ সালের নিলামে কেনা খেলোয়াড়দের ট্রেড করতে পারবে না। দেখা যাক এখন ট্রেডিংয়ে আর কোন কোন ক্রিকেটার দলবদন করেন!
(Feed Source: zeenews.com)
