
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের মেরঠ ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ, এক চিকিৎসক দুই বছরের এক শিশুর মাথার ক্ষত সেলাই না করে সেখানে ব্যবহার করেছেন ফেভিকুইক! ঘটনাটি সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে চিকিৎসা মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ঘটনার সূত্রপাত মেরঠের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, দুই বছরের একটি শিশু খেলার সময় মাথায় আঘাত পায়। রক্তপাত শুরু হলে পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি করে তাকে স্থানীয় ওই হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক শিশুটির মাথার ক্ষত পরীক্ষা করে জানান, সেলাইয়ের প্রয়োজন নেই, সামান্য আঠা লাগালেই ক্ষত শুকিয়ে যাবে। এরপরই তিনি ফেভিকুইক আঠা ব্যবহার করে ক্ষত বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ।
শিশুর পরিবারের দাবি, চিকিৎসক কোনও রকম প্রাথমিক চিকিৎসা না করেই সরাসরি আঠা লাগিয়ে দেন। এমনকি কোনও অ্যান্টিসেপটিকও ব্যবহার করা হয়নি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটির মাথায় জ্বালা ও ফোলা শুরু হয়। ব্যথায় কাতরাতে থাকে সে। এরপরই তাকে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা জানান, আঠা লাগানোর ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং অবিলম্বে চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিশুর পরিবার স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত চিকিৎসক একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন এবং তাঁর কাজের ধরনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও হতবাক।
চিকিৎসা মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক চিকিৎসকই বলেছেন, ‘ফেভিকুইক কোনও ওষুধ নয়, এটি একটি শিল্পজাত আঠা যা কাগজ, প্লাস্টিক বা কাঠের জিনিস জোড়া লাগাতে ব্যবহৃত হয়। এটি মানবদেহে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং বিপজ্জনক।’ চিকিৎসকদের মতে, এমন কাজ চিকিৎসা নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং এর জন্য কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
এই ঘটনার পর রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরও নড়েচড়ে বসেছে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসা লাইসেন্স বাতিল সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে নজরদারি ও জবাবদিহি কতটা জরুরি। একদিকে যেখানে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নতির পথে, সেখানে এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের আস্থাকে চরমভাবে আঘাত করে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেয় এই ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
(Feed Source: zeenews.com)
