
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৫ সালের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা যেন শুধুই সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা নয়, বরং এক নারীর আত্মসম্মান রক্ষার লড়াইয়ের গল্প। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার আগে থেকেই বিতর্কের ছায়া ঘনিয়ে উঠেছিল। মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল ডিরেক্টর নাওয়াত ইৎসারাগ্রিসিল প্রকাশ্যে ফাতিমাকে ‘ডাম্বহেড’ বলে অপমান করেন, কারণ তিনি থাইল্যান্ডের প্রচারে অংশ নিতে অস্বীকার করেন। এই ঘটনার পর ফাতিমা প্রতিযোগিতা থেকে ওয়াক-আউট করেন, যা বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলে।
তবে বিতর্কের পরেও ফাতিমা ফিরে আসেন মঞ্চে, এবং নিজের আত্মবিশ্বাস ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে বিচারকদের মন জয় করেন। ২০ নভেম্বর, ব্যাংককের ইমপ্যাক্ট চ্যালেঞ্জার হলে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তিনি মুকুট জয় করেন।ফাইনালে ফাতিমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন থাইল্যান্ডের প্রাভিনার সিং, ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আবাসালি, ফিলিপিন্সের আথিসা মানালো এবং আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াস।
ফাতিমা বিজয়ী হিসেবে ২.২ কোটি টাকার পুরস্কার পান এবং ৪৪ কোটি টাকার মুকুট এক বছরের জন্য নিজের করে নেন। ফাতিমার এই বিজয় শুধু সৌন্দর্যের নয়, নারীর আত্মসম্মান ও প্রতিবাদের জয় । তিনি প্রমাণ করে দিলেন, অপমানের জবাব সৌন্দর্য দিয়ে নয়, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে দেওয়া যায়।
মিস ইউনিভার্সের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে লেখা হয়, ‘আজ রাতে, একটি তারার জন্ম হয়েছে। তার করুণা, শক্তি এবং উজ্জ্বল আত্মা বিশ্বের হৃদয় জয় করেছে…’।
দুই বিচারকের পদত্যাগ এবং আয়োজকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এই প্রতিযোগিতাকে আরও বিতর্কিত করে তোলে।বিজয়ের পর ফাতিমা বলেন, ‘আমি শুধু একটি মুকুট জিতিনি, আমি আমার আত্মসম্মান ফিরিয়ে এনেছি। নারীদের উচিত নিজেদের জন্য দাঁড়ানো, যেখানেই অন্যায় হবে।’
মিস ইউনিভার্স ২০২৫-এর মঞ্চে ফাতিমা বোশের বিজয় এক নতুন ইতিহাস রচনা করল। সৌন্দর্য, সাহস, প্রতিবাদ এই তিনের মেলবন্ধনে তিনি হয়ে উঠলেন আধুনিক নারীত্বের প্রতীক । এই প্রতিযোগিতা দেখিয়ে দিল, মুকুট শুধু মাথায় নয়, মনের দৃঢ়তায় বসে। আর ফাতিমা বোশ সেই দৃঢ়তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
(Feed Source: zeenews.com)
