Stock Market: শেয়ার বাজারে উত্থানের ঢেউ, সেনসেক্স ছুঁল ৮৫ হাজার, লক্ষ্য এখন এক লক্ষ!

Stock Market: শেয়ার বাজারে উত্থানের ঢেউ, সেনসেক্স ছুঁল ৮৫ হাজার, লক্ষ্য এখন এক লক্ষ!

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অক্টোবরের শুরু থেকে যেন নতুন ছন্দে উঠেছে ভারতীয় শেয়ার বাজার। সেনসেক্স পেরিয়ে গেছে ৮৫,০০০-এর গণ্ডি, নিফটি ছুঁয়েছে ২৬,০০০। বাজারের এই দুরন্ত র‍্যালি ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি, আর বিশ্লেষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ এই উত্থান কতটা টেকসই?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই র‍্যালির পিছনে রয়েছে একাধিক ইতিবাচক ইঙ্গিত। কর্পোরেট আয়ের ভালো ফলাফল, ভারত-আমেরিকা সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি, এবং ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বাজারে আস্থা ফিরিয়েছে। এসবিআই সিকিউরিটিজের গবেষণা প্রধান সানি আগরওয়ালের মতে, ‘২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে যদি আয়ের গতি বজায় থাকে, তবে সেনসেক্স ৯৫,০০০ থেকে ১,০০,০০০-এর মধ্যে পৌঁছাতে পারে।’

তবে ২০২৫ সালের শেষেই সেনসেক্স ৯০,০০০ ছুঁতে পারবে কি না, তা নির্ভর করছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে—ভারত-আমেরিকা ট্রেড ডিলের বাস্তবায়ন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেপো রেট কমানো, মার্কিন ফেডের নরম মনোভাব এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

ব্যাঙ্কিং সেক্টর এই র‍্যালির অন্যতম চালিকাশক্তি। স্থিতিশীল নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন, উন্নত অ্যাসেট কোয়ালিটি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলির সম্ভাব্য সংযুক্তিকরণ এই খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নিফটি ব্যাঙ্ক সূচক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আঞ্জেল ওয়ানের সিনিয়র বিশ্লেষক ভকরজাভেদ খান জানিয়েছেন, ‘২০২৬ সালের শেষে সেনসেক্স ৯৩,০০০ ছাড়াতে পারে, কারণ ইপিএস বৃদ্ধির হার থাকবে দুই অঙ্কে।’

মর্গান স্ট্যানলির মতে, যদি তেলের দাম ৬৫ ডলারের নিচে থাকে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ শান্ত থাকে, তবে সেনসেক্স ২০২৬ সালের মধ্যে ১,০৭,০০০-এ পৌঁছাতে পারে। পিএল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের মতে, মিডিয়াম টার্মে বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক, তবে কোয়ার্টারলি আয় ও বৈশ্বিক সুদের হারের গতিপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

ব্যাঙ্কিং ছাড়াও এনবিএফসি, অটো-অ্যানসিলারি, ক্যাপিটাল মার্কেট, অয়েল মার্কেটিং এবং হোটেল খাতেও রয়েছে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা। জিএসটি রেশনালাইজেশন, প্রিমিয়ামাইজেশন এবং সেফটি ফিচারের চাহিদা অটো সেক্টরে বিক্রির গতি বাড়াতে পারে। খান জানিয়েছেন, ‘ফিনান্সিয়ালস, কনজিউমার, ইন্ডাস্ট্রিয়ালস এবং গ্রিন এনার্জি খাতগুলি দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল করতে পারে।’

তবে সব সূচক একসঙ্গে ছুটছে না। মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচক এখনও তাদের সর্বোচ্চ স্তরের নিচে। নিফটির সাম্প্রতিক ৬% র‍্যালির ৬০% এসেছে মাত্র ছয়টি বড় সংস্থার হাত ধরে রিলায়েন্স, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, ভারতি এয়ারটেল, এসবিআই, এল অ্যান্ড টি এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা, জাপানের বন্ড ইয়িল্ড বৃদ্ধি এবং ডলারের প্রতি আস্থার ঘাটতি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত-আমেরিকা চুক্তি বিলম্বিত হলে রপ্তানি, রুপি এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতিতে ধাক্কা লাগতে পারে।

সব মিলিয়ে, বাজারে এখন আশাবাদের হাওয়া বইছে ঠিকই, তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা একটাই—উৎসাহ থাক, কিন্তু চোখ-কান খোলা রাখুন। কারণ, এই র‍্যালির গন্তব্য ঠিক হলেও পথ কিন্তু এখনও কাঁটায় ভরা।

(Feed Source: zeenews.com)