
রাজীব চক্রবর্তী: এএসআইআর (SIR) আবহে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। বাংলাদেশি (Bangladeshi) সন্দেহে ধৃত বাঙালি সোনালি খাতুন ও তাঁর পরিবারকে অবিলম্বে দেশে ফেরানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ থেকে সোনালি খাতুন ও তাঁর পরিবারকে ফিরিয়ে আনার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় কেন্দ্র সরকার। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে ওঠে এই মামলাটি। সেখানেই অন্তর্বর্তীকালীন এই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
দেশে ফেরানোর নির্দেশ
প্রাথমিকভাবে শীর্ষ আদালত সোনালি খাতুন ও তাঁর পরিবারকে দেশে ফেরানোর নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল জানান, তাঁরা তাৎক্ষণিক ভাবে শুনানির জন্য প্রস্তুত নন এবং সময় চান। তবে আদালত সময় দিতে অস্বীকার করে। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, তালিকাভুক্ত মামলায় শুনানি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট করেন, জন্মের শংসাপত্র-সহ অন্যান্য নথি প্রাথমিকভাবে জোরালো প্রমাণ তুলে ধরছে। আদালতের মতে, অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলি পরে খতিয়ে দেখা যাবে, আপাতত পরিবারের ফেরানোই অগ্রাধিকার।
আগামী সোমবার
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার। প্রসঙ্গত, ভদু শেখ ও আমির খানের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন কপিল সিব্বল।
মানবিকতার প্রেক্ষিতে
কলকাতা হাইকোর্টের ২৬ সেপ্টেম্বরের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল কেন্দ্র সরকার। ওই নির্দেশে হাইকোর্ট জানিয়েছিল, বাংলাদেশে পুশব্যাক করা বীরভূমের সোনালি খাতুন-সহ আরও পাঁচজনকে চার সপ্তাহের মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে আনতে হবে। কেন্দ্রের পক্ষে ২২ অক্টোবর একটি আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু ২৪ অক্টোবর চার সপ্তাহের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তাঁদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী জানান, যে কোনও পক্ষই উচ্চতর আদালতে যাওয়ার অধিকারী। তবে এই মামলায় যেহেতু একজন গর্ভবতী মহিলা ও দুই শিশুর বিষয় জড়িত– তাই মানবিকতার প্রেক্ষিতে দ্রুত সমাধানের আশা করা হয়েছিল! হাইকোর্টে জমা পড়া হেবিয়াস কর্পাস আবেদনপত্রে সোনালির বাবা ভদু শেখ উল্লেখ করেন, তাঁর মেয়ে তখন আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন।
ঘটনাক্রম
ঘটনাটির শুরু ২১ জুন। দিল্লির রোহিণী থেকে সোনালি, তাঁর স্বামী দানিশ শেখ, তাঁদের ৮ বছরের ছেলে সাবির এবং সুইটি বিবি ও তাঁর দুই পুত্রকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক করা হয়েছিল। ২৬ জুন দিল্লির ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস তাঁদের দেশছাড়া করার নির্দেশ দেয় এবং সেদিনই তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। এরপর ২১ অগাস্ট বাংলাদেশে তাঁদের অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁরা এখন সেখানকার কারাগারে বন্দি বলেই খবর।
কার এক্তিয়ারে?
কলকাতা হাইকোর্টে দুই বিচারপতির বেঞ্চ FRRO-র আদেশ বাতিল করে জানায়, ভদু শেখ বীরভূমের স্থায়ী বাসিন্দা এবং সোনালি ও অন্যান্যরাও জন্ম থেকেই বীরভূমেই বসবাস করেছেন। আদালত নির্দেশ দেয়, ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিস যুক্তি দেয়, কলকাতা হাইকোর্টের এই মামলার এক্তিয়ারই নেই। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) অশোক কুমার চক্রবর্তী জানান, ভদু শেখ আদালতে গোপন করেছিলেন যে, এর আগেই দিল্লি হাইকোর্টে একই বিষয়ে দুটি আবেদন বিচারাধীন ছিল। তবে, এখন মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
