)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলার আরেরাজে এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিল এক খুনের মামলা। যে নারীকে খুনের অভিযোগে স্বামীকে জেলে পাঠানো হয়েছিল, সেই নারীকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেল নয়ডায় প্রেমিকের সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস করতে এবং পুলিশের এই খোঁজে হতবাক গোটা এলাকা।
২৫ বছর বয়সি ওই নারী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরেরাজ নগর পঞ্চায়েতের ওয়ার্ড নম্বর ১০-এর বাসিন্দা রঞ্জিত কুমারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু জুলাই মাসে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। এরপর রঞ্জিত থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন ওই নারীর পরিবার অভিযোগ করে, রঞ্জিত ও তাঁর পরিবার পণের জন্য মেয়েটিকে নির্যাতন করে খুন করেছে এবং দেহ গুম করেছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রঞ্জিতকে গ্রেফতার করে এবং খুনের মামলায় জেলে পাঠানো হয়। গোটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। পণপ্রথা ও নারীনির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা।
তবে তদন্ত চলাকালীন পুলিশ কিছু প্রযুক্তিগত সূত্র পায়, যা সন্দেহের জন্ম দেয়। আরেরাজ থানার এসএইচও প্রত্যাশা কুমারী জানান, ‘তদন্তে কিছু টেকনিক্যাল ইনপুট পাওয়ার পর নয়ডায় একটি সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। এরপর একটি দল নয়ডায় গিয়ে ওই নারীকে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে একসঙ্গে বসবাসরত অবস্থায় খুঁজে পায়।’
আরেরাজের এসডিপিও রবি কুমার বলেন, ‘ওই নারী জুলাই মাসে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। নয়ডায় তাঁদের খোঁজ মেলে। দু জনকেই গ্রেফতার করে আরেরাজে আনা হচ্ছে।’
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পরিবারের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে। একজন নির্দোষ মানুষকে খুনের অভিযোগে জেলে পাঠানো হল, অথচ যার ‘খুন’ হয়েছে বলে দাবি, সে দিব্যি প্রেমিকের সঙ্গে অন্য রাজ্যে বসবাস করছে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, ‘এটা শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়, বরং একজন নির্দোষ মানুষকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। পুলিশ আরও সতর্ক হলে হয়তো এমনটা হত না।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারী ও তাঁর প্রেমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং আদালতে পেশ করা হবে। পাশাপাশি, রঞ্জিতের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া খুন ও পণনির্যাতনের মামলা পুনর্বিবেচনা করা হবে। এখন দেখার, রঞ্জিতের মুক্তি ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।
(Feed Source: zeenews.com)
