
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (private university) প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা কীভাবে চলছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আদালত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (UGC) ভারতের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে। অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে দায়ের হওয়া একটি রিট আবেদন থেকে শুরু হওয়া বিষয়টি এখন একটি বৃহত্তর জনস্বার্থ মামলায় পরিণত হয়েছে। আদালত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে—সমগ্র খাতে আরও বেশি স্বচ্ছতা চাই।
আদালতের নির্দেশের মূল বিষয় হল: মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সব রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ইউজিসি চেয়ারম্যানকে ব্যক্তিগতভাবে হলফনামা জমা দিতে হবে। কেউ নিজের দায়িত্ব অন্য কারও কাছে অর্পণ করতে পারবেন না। বেঞ্চ স্পষ্টভাবে বলেছে, “হলফনামায় কোনও তথ্য গোপন করার চেষ্টা বা ভুল উপস্থাপন করার চেষ্টা হলে আদালত কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।” সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ সামনে আসার পরই বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ভারতের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রকৃত ক্ষমতা কারা প্রয়োগ করছেন তারও সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছে—তা বোর্ড, কমিটি বা যার নামেই পরিচালিত হোক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় জড়িত সব ব্যক্তির তালিকা দিতে হবে। সঙ্গে প্রতিটি পরিচালনা কমিটির গঠন ও সদস্য নিয়োগের পদ্ধতিও জানাতে হবে। ইউজিসিকে (UGC) হলফনামার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি তদারকিতে তাদের অবস্থান কী এবং মান নিয়ন্ত্রণে তারা কীভাবে নজরদারি চালায়।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে জানাতে হবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়। বিশেষ অনুমতি বা সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকলে তারও তালিকা চেয়েছে আদালত। বেঞ্চ আরও খতিয়ে দেখছে, “লাভ-ক্ষতি নয়” নীতিতে পরিচালিত বলে দাবি করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাস্তবে সেই নীতি আদৌ মানছে কি না। আদালত ছাত্র, শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অভিযোগ নিষ্পত্তির সুযোগ এবং ন্যূনতম মজুরি আইন মেনে চলা হচ্ছে কিনা সে সম্পর্কেও তথ্য চেয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ৮ জানুয়ারি ২০২৬।
(Feed Source: zeenews.com)
