Subhash Chandra: বারবার থেমেছেন, তবুও হার না মানা লড়াকু এক মিডিয়া টাইকুন ড.সুভাষ চন্দ্র…

Subhash Chandra: বারবার থেমেছেন, তবুও হার না মানা লড়াকু এক মিডিয়া টাইকুন ড.সুভাষ চন্দ্র…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হিসারের সাধারণ পরিবারের ছেলে কী ভাবে হলেন ভারতের ‘মিডিয়া মোগল’– ডঃ সুভাষ চন্দ্রর গল্প প্রতিটি মানুষের অনুপ্রেরণার উত্‍স।

ড. সুভাষ চন্দ্র— প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ এবং এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান। আজ তাঁর ৭৫তম জন্মদিন। সাধারণ পরিবারের ছেলে হয়েও কী ভাবে সারাজীবন বড় বড় চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে দেশের বড় মিডিয়া আইকন হয়ে উঠলেন, তাঁর সেই জীবনের গল্প আজও দেশের কোটি যুবক-যুবতীর পাথেয়।

ড. সুভাষ চন্দ্রর জীবনকথা

ভারতবর্ষে যুগে যুগে সবসময়ই অনেক মহান এবং আদর্শ মানুষ জন্মেছেন। তাঁদের জীবন ও আদর্শ দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করে, ডঃ সুভাষ চন্দ্র এমনই একজন আইকন। একজন দূরদর্শী ভাবুক এবং ভবিষ্যদ্রষ্টা নেতা। ভবিষ্যতের সমস্যাকে আগেই বুঝে নেওয়ার বিরল ক্ষমতা তাঁর আছে।

শৈশব ও শুরু- 

ডঃ সুভাষ চন্দ্রর জন্ম ৩০ নভেম্বর ১৯৫০-এ। স্কুল শেষ করে তিনি পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন। নতুন কিছু করার ইচ্ছা এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ব্যবসায় বড় সাফল্য দেয়।

‘মিডিয়া মুঘল

ডঃ সুভাষ চন্দ্র ভারতের প্রথম প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ভারতীয় দর্শকদের জন্য সিরিয়াল, বিনোদন, মিউজিক চ্যানেল, মুভি চ্যানেল এবং নিউজ চ্যানেলের নতুন যুগ এনে দেন। তাঁর সমাজকে দেখার যে চোখ, সেই কারণেই গত ২৫ বছর ধরে Zee TV, Zee Cinema, Zee News প্রতিটি ঘরে ঘরে পরিচিত নাম।

তিনি স্বচেষ্টায় সফল উদ্যোক্তা এবং টিভি ইন্ডাস্ট্রির ট্রেন্ডসেটার হিসেবে পরিচিত। ডঃ সুভাষ চন্দ্র রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেও দেশসেবা করেছেন।

‘দূরদর্শী লিডার’

ভারতে স্যাটেলাইট টিভির যাত্রা শুরু হয় প্রায় ৩৩ বছর আগে এবং প্রথম স্যাটেলাইট টিভি শুরু করে ZEE

Zee Entertainment প্রতিষ্ঠিত হয় নভেম্বর ১৯৮২ সালে।

১৯৯২ সালে Zee TV লঞ্চ হয়— দেশের প্রথম প্রাইভেট স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল।

১৯৯৪ সালে ZEE, মিউজিক জগতে প্রবেশ করে।

১৯৯৫ সালে Zee TV ইউরোপ ও UK-তে লঞ্চ হয়।

এরপর Zee News, Zee Cinema আসে।

১৯৯৬ সালে প্রথম কেবল চ্যানেল ‘Siti Channel’ শুরু হয়।

১৯৯৭ সালে Zee Music

১৯৯৮ সালে Zee TV আমেরিকায় লঞ্চ হয়।

আর এই সবকিছুই ডঃ সুভাষ চন্দ্রের দূরদর্শিতার ফল। আজও তাঁর প্রতিটি প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি দর্শকের ভরসা।

জীবনের চড়াই-উত্‍রাই

নিজের জীবনী ‘The Z Factor: My Journey as the Wrong Man at the Right Time‘-এ তিনি লিখেছেন— ‘আজ যেখানে পৌঁছেছেন, সেখানে পৌঁছানো সহজ ছিল না’। তিনি জীবনের কঠিন সময়ের যুদ্ধগুলো সাহসের সঙ্গে সবার সামনে বলেছেন।

তাঁর বইয়ে তিনি লিখেছেন, যখন তাঁর বয়স ৫৪-৫৫, তখন দীর্ঘ দিনের সাফল্যের পর হঠাৎ ব্যবসা ভেঙে পড়তে শুরু করে।

দুই বড় কারণ:

1. সাট্টা বাজারে বড় লোকসান
2. কাপাসের দামের অস্থিরতা

তাঁর দাদুর ব্যবসায় চুক্তি ভুল হয়, যার ফলে ৫০ লাখেরও বেশি ক্ষতি হয়। আরেক সমস্যা ছিল পরিবারের তেলের মিল। ৩৫ লাখ বিনিয়োগ করা হয়েছিল, কিন্তু মূলধনের অভাবে ব্যবসা ডুবে যায়। ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েও তারা লাভ তুলতে পারেনি।

তবুও এত সমস্যার মধ্যে তিনি ব্যবসাকে আবার দাঁড় করান এবং জীবন সমগ্রামে আবার জয়লাভ করেন।

হিসারের এক সাধারণ পরিবারের ছেলের এই অসাধারণ নেতৃত্ব ও ভিশন তাঁকে বিশ্বের সামনে ‘মিডিয়া মুঘল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

‘পথপ্রদর্শক’

ড. সুভাষ চন্দ্র একজন আদর্শ চিন্তাবিদ। তিনি জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে কঠিন পরিস্থিতিকে জয় করেছেন।

দেশ কী ভাবে এগোতে পারে, কোন প্রতিষ্ঠান কী ভাবে উন্নতি করতে পারে— এসব বিষয়ে তাঁর চিন্তা কোটি মানুষকে পথ দেখায়।
‘সচ কহুঁ’ শো-র মাধ্যমে তিনি ছাত্রদের ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করছেন।

‘মাটির কাছাকাছি থাকা একজন সমাজসেবী’

রাজ্যসভায় থাকাকালীনও তিনি সমাজসেবার অনেক উদাহরণ স্থাপন করেছেন। হরিয়ানার আদমপুরের ৫টি গ্রাম দত্তক নিয়ে সেগুলোর উন্নয়নে কাজ করেন। করোনাকালে, তাঁর নেতৃত্বে Essel Group বিভিন্ন রাজ্যে অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিক্যাল সরঞ্জাম দান করে। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন Subhash Chandra Foundation, যা বিপদে থাকা মানুষকে সাহায্য করে।

বর্তমানে বাঁচতে হবে: ডঃ সুভাষ চন্দ্রের মূলমন্ত্র 

তিনি জন্মদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাটাতে ভালোবাসেন। এই দিনে তিনি যুবকদের সঙ্গে কথা বলেন, নিজের অভিজ্ঞতা শোনান ও ক্যারিয়ার গাইড করেন।

তিনি অনেকবার বলেছেন— ‘সামনে এগোতে হলে বর্তমানে বাঁচতে হবে। পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে সবকিছু সম্ভব।’

প্রতি বছর তাঁর জন্মদিন, সুভাষ চন্দ্র ফাউন্ডেশন, যুব সংগঠন-সহ অনেক মানুষ উদযাপন করেন।

তাঁরা তাঁর দীর্ঘ জীবনের কামনা করেন এবং তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নেন।

(Feed Source: zeenews.com)