Success Story: পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে রজনী বাউরি, বাঁকা কথা উড়িয়েছেন ড্রিবল করে, পায়ে বল স্বপ্ন দেশের জার্সিতে খেলার

Success Story: পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে রজনী বাউরি, বাঁকা কথা উড়িয়েছেন ড্রিবল করে, পায়ে বল স্বপ্ন দেশের জার্সিতে খেলার

Success Story:রজনীর পথচলা শুধু ফুটবলের গল্প নয়, এটি লড়াইয়ের গল্প, পথ দেখানোর গল্প আর অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখানোর গল্প।

ফুটবলার রজনী বাউরি

পুরুলিয়া, শান্তনু দাস: পুরুলিয়া জেলার কাশীপুরের প্রত্যন্ত ধানেড়া গ্রামের ফুটবলার রজনী বাউরি। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল তার শিরায়-শিরায় মিশে আছে। ছোটবেলার সেই মাঠের গন্ধ, বলের ছোঁয়া আর গোলের উত্তেজনাই তাকে তৈরি করেছে আজকের রজনীতে। সমাজের বাঁধা, কটুবাক্য, আর অভাবের অন্ধকার ভেদ করে সে ছুটে চলেছে নিজের স্বপ্নের দিকে। গত ১১ বছর ধরে নিয়মিত ফুটবল খেলছে রজনী এবং দক্ষতার সঙ্গে ছড়িয়ে দিয়েছে নিজের প্রতিভার আলো।

পুরুলিয়া জেলার সীমানা পেরিয়ে রাজ্যের নানা মাঠে নিজের জায়গা করে নিয়েছে সে। আজ রজনী শুধু নিজে খেলেই থেমে নেই। রজনী আজ নিজের এলাকার প্রায় ৪০ জন তরুণীকে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। রজনীর স্বপ্ন, একদিন তারাও ভারতের মাটিতে দাপিয়ে খেলবে, ঠিক যেমন বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষ দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।

রজনী জানায়, “ফুটবল খেলতে গিয়ে সমাজের অনেক কটুক্তি সহ্য করতে হয়েছে। অনেকেই বলেছে, মেয়েদের ফুটবল খেলে ভবিষ্যৎ হয় না। কিন্তু বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষ সবাইকে প্রমাণ করে দিয়েছে যে খেলাধুলায় মেয়েদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। তাই আজ আমাদের সবার অনুপ্রেরণা সে। আমরা চাই, একদিন তার মতোই ভারতের মাটিতে দাপিয়ে খেলতে, দেশের নাম উজ্জ্বল করতে, উজ্জ্বল করতে আমাদের জেলা পুরুলিয়ার নাম।”

রজনীর এই কঠোর পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তি তার প্রশিক্ষণ নেওয়া মেয়েদের জীবনেও জ্বালিয়েছে নতুন আলো। ফুটবলার সুমিত্রা সিং সর্দার জানায়, “বিগত এক বছর ধরে রজনীর কাছ থেকে আমরা ফুটবল শিখছি। আমাদের স্বপ্ন, একদিন বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের মতো আমরাও ভারতের নাম উজ্জ্বল করব।” রজনীর পথচলা শুধু ফুটবলের গল্প নয়, এটি লড়াইয়ের গল্প, পথ দেখানোর গল্প আর অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখানোর গল্প।