)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে ভয়ংকর সেই ভিডিয়ো। প্রায় ৮০,০০০ দর্শকে ভরা স্টেডিয়ামে এক খুনের আগামীকে গুলি করল ১৩ বছরের এক বালক। গুলির শব্দে মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা স্টেডিয়াম। বহুদিন পর তালিবান শাসিত আফগানিস্থানে এরকমই এক ঘটনা ঘটেছে খোস্ত প্রদেশে। ৯ শিশু-সহ একই পরিবারের ১৩ জনকে খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল খোস্ত প্রদেশের এর ভরা স্টেডিয়ামে। যে পরিবারে নারকীয় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সেই পরিবারের মাত্র ১৩ বছরের এক বালককে দিয়ে গুলি করানো হল অপরাধীকে।
তালিবানের এক কর্মকর্তারা সংবাদমাদ্যমে জানিয়েছেন, যে ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে তার নাম মঙ্গল। আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এরপর তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেন।
The Taliban carried out a public execution of a man in a stadium before 80,000 spectators in Khost province!
What’s even more alarming is that @AmuTelevision reports the executioner was a 13-year-old boy who pulled the trigger !!
This should Trigger a warning to the world.… pic.twitter.com/qbRpEPjPpn— Nilofar Ayoubi (@NilofarAyoubi) December 2, 2025
এমন নির্মম ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট এটিকে “অমানবিক, নিষ্ঠুর এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী” বলে উল্লেখ করেছেন।
আফগান সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী এই মৃত্যুদণ্ডটি ২০২১ সালে তালিবানরা আবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের দ্বারা কার্যকর করা ১১তম বিচার বিভাগীয় হত্যা। আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, খোস্ত প্রদেশে এক খুনির ওপর কিসাসের (প্রতিশোধ/পাল্টা শাস্তি) কার্যকর করা হয়েছে।
খোস্ত প্রদেশের খেলার মাঠে নিহতদের আত্মীয়স্বজন সহ হাজার হাজার মানুষ এই মৃত্যুদণ্ড দেখার জন্য জড়ো হয়েছিল। খোস্তের তালিবান গভর্নরের মুখপাত্র, মোস্তাঘফার গুরবাজ জানিয়েছে, প্রায় ১০ মাস আগে আলিশির এবং তেরেজিও জেলায় খোস্তের বাসিন্দা আব্দুল রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হত্যার দায়ে মঙ্গলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
আফগানিস্তান সুপ্রিম কোর্টের তরফে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, খুনি মঙ্গলের বাড়ি পাকতিয়া প্রদেশের সাইদ কারাম জেলার সাজাঙ্ক এলাকায়, কিন্তু সে বর্তমানে খোস্ত প্রদেশের আলিশেরো এবং তেরেজিও জেলার কুজি আবুখানি এলাকার বাসিন্দা ছিল। সে হত্যা করেছিল আব্দুল রহমান-কে। আব্দুল রহমান খোস্ত প্রদেশের আলিশেরো এবং তেরেজিও জেলার কুজি আবুখানা এলাকারই স্থায়ী ও বর্তমান বাসিন্দা ছিলেন।
তালিবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে , প্রথম আদালত , আপিল আদালত এবং সুপ্রিম কোর্ট—এই তিন স্তরের শুনানির পরই ওই লোকটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। মঙ্গলের প্রাণ বাঁচাতে নিহতদের পরিবারকে ক্ষমা ও সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা ক্ষমা না করে, মৃত্যুদণ্ডের আর্জি জানান।
আফগানিস্তানের আমু নিউজ (Amu News) স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, মৃত্যুদণ্ডটি ১৩ বছর বয়সী একটি ছেলে কার্যকর করেছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সে ক্ষমা করতে চায় কিনা। সে রাজি না হওয়ায়, ছেলেটিই গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
(Feed Source: zeenews.com)
