জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) পর্ব মিটলেই শুরু হবে ভারতে জনগণনার (Census) কাজ। অন্তত এমনই জানাল কেন্দ্র। ২০২৬-এর ভোটের আগে রাজ্যগুলিতে এসআইআর চলছে। আর ২০২৭ সালে হবে আদমশুমারি তথা জনগণনা। শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন সংসদে এমনই ঘোষণা করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। জানা যাচ্ছে, মোট দু’টি দফায় সেনসাসের এই কাজ হবে। লোকসভায় এক লিখিত বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালে জনগণনা (Census 2027) হবে।
২০২৬-২০২৭
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, দুই পর্যায়ের এই কাজের প্রথম পর্যায়ে বাড়ির গণনা হবে। এই কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কেন্দ্রশাসিত ও রাজ্যগুলিতে হবে বাড়ি গণনা। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়। এই পর্যায়ে হবে জনগণনা। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হবে এই কাজ। তবে, পাহাড়ি অঞ্চল, যেমন-জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশ, লাদাখ– ইত্যাদি জায়গায় তুষারপাত ঘটে বলে সেখানে জনগণনা হবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।
জাতিগণনাও
আসলে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছিলেন, জনগণনা কবে হবে? এর জবাবেই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এই দিনক্ষণ জানান। তবে শুধু জনগণনা নয়, হবে জাতিগণনাও। কেন্দ্র জানিয়েছে, একশো বছর পর হবে এই গণনা। বস্তুত, ২০২৭ সালে যে জনগণনা হতে চলছে, তা হবে ডিজিটালি। জনগণ নিজের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সমস্ত পরিসংখ্যান নিজেরাই তুলে ধরবেন। তারপর সেই মতো সংগ্রহ করা হবে যাবতীয় তথ্য।
২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মঙ্গলবার লোকসভায় জানিয়েছে, আসন্ন জনগণনা ২০২৭ প্রক্রিয়াটি দু’টি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে– ২০২৬ সালে হাউজ লিস্টিং, মানে, বাড়ির তালিকাভুক্তি এবং হাউজিং ডেটা সংগ্রহ। সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩০ দিনের সময়কালে সম্পন্ন হবে এই কাজ। দ্বিতীয় পর্যায়ে হবে জনসংখ্যা গণনা। এটি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে করার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
১ অক্টোবর রেফারেন্স তারিখ
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর এক প্রশ্নের জবাবে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যনন্দ রাই নিশ্চিত করেন যে, দেশের সর্বত্র গণনার জন্য ২০২৭ সালের ১ মার্চকে রেফারেন্স তারিখ হিসাবে ব্যবহার করা হবে। তবে, লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের বরফ-ঢাকা অঞ্চলগুলির জন্য জনগণনা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হবে। সেক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর রেফারেন্স তারিখ গণ্য হবে। এই প্রক্রিয়াটিতে পূর্ববর্তী অনুশীলনগুলি থেকে প্রাপ্ত তথ্য ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জনগণনার প্রশ্নাবলি
প্রশ্নপত্র তৈরির বিষয়ে জনগণের মতামত সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে MHA জানিয়েছে, জনগণনার প্রশ্নাবলি শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক, ব্যবহারকারী সংস্থা এবং বিষয়-বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পরেই চূড়ান্ত করা হয়। জনগণনা ২০২৭-এর জন্য দেশব্যাপী একটি প্রি-টেস্ট গত ৩০ নভেম্বর শেষ হয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রশ্নাবলি শীঘ্রই বিজ্ঞাপিত হবে বলে মন্ত্রক জানিয়েছে। জনগণনা বিধি, ১৯৯০-এর ৬ নং বিধি অনুসারে জনগণনার প্রশ্নাবলি এবং তফসিলগুলি আইনের ধারা ৮-এর উপধারা (১) এর অধীনে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা বিজ্ঞাপিত হয়। রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং সেনসাস কমিশনারের কার্যালয় প্রশ্নাবলি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
