Sahara Desert: মরুবালির গর্ভ থেকে উঠে আসছে পাথরের সাইক্লোন? শিলা-দেওয়ালের পাকে-পাকে নদীর আত্মার চিহ্ন? রহস্য রোমাঞ্চ…

Sahara Desert: মরুবালির গর্ভ থেকে উঠে আসছে পাথরের সাইক্লোন? শিলা-দেওয়ালের পাকে-পাকে নদীর আত্মার চিহ্ন? রহস্য রোমাঞ্চ…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (International Space Station) থেকে মহাকাশচারীর চোখে ধরা পড়ল এক অপূর্ব দৃশ্য। দৃশ্যটি সাহারা মরুভূমির (Sahara desert)। কী দেখা গিয়েছে? রিং আকৃতির পাথর (ring-shaped rock formations)। লিবিয়ার জাবাল আরকান মাসিফে (Libya’s Jabal Arkanu massif) দেখা গিয়েছে এই ছবি।

মরুর মাঝে শিলার দেওয়াল?

জানা আছে, উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির শুষ্কতম অংশ হল এই অঞ্চলটি। সেখানেই ফ্যাকাশে বালির মাঝে মিলল পাথরের চিহ্ন। মরুর মাঝে মাথা তুলে গোল করে দাঁড়িয়ে শিলার প্রাচীর। অনেকটা যেন আংটির মতো। নাম জাবাল আরাকানু। এই ছবিই ধরা পড়ল আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের মহাকাশচারীদের ক্যামেরায়।

কেন নদী?

কিন্তু এর পরেই প্রশ্ন উঠছে, কী ভাবে মরুভূমির মাঝে মাথা তুলে দাঁড়াল ওই শিলার দেওয়াল? নেপথ্যে কি রয়েছে মানুষের সৃষ্টিশীল হাত, না কি অন্য কিছু? নিছক প্রাকৃতিক কারণ! শুষ্ক মরুভূমির মাঝে খুঁজে-পাওয়া সেই শিলার মাঝে রয়েছে শুষ্ক নদীখাতও। কী ভাবে তা সেখানে এল, উঠছে প্রশ্ন।

জাবাল আরাকানু

দক্ষিণ-পূর্ব লিবিয়ায় সাহারা মরুভূমির যে অংশ রয়েছে, সেখানেই রয়েছে জাবাল আরাকানু। তার কাছেই রয়েছে মিশরের সীমান্ত। এর ৯০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রায় একই ধরনের আরাকানু কাঠামো দেখা যায়। অতীতে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, মরুভূমির উপরে উল্কা আছড়ে পড়ায় এ ধরনের আংটির মতো ভৌগোলিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। পরে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জাবাল আরাকানুর জন্ম ঠিক সেই ভাবে হয়নি।

কী মত বিজ্ঞানীদের?

বিজ্ঞানীদের মতে, ভূগর্ভ থেকে ম্যাগমা উঠে এসে এই ভূমিরূপ তৈরি হয়েছে। ম্যাগমা মাটির গভীর থেকে উঠে এসে গহ্বরের চারপাশে সঞ্চিত হয়েছে। পরে সেগুলো শুকিয়ে কঠিন হয়ে যাওয়ার পরে আবার ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে এসেছে ম্যাগমা। আবার তা জমেছে কঠিন শিলাস্তরের উপরে। এ ভাবে স্তরের উপরে স্তর সঞ্চিত হয়ে আংটির মতো উঁচু ভূমিরূপ তৈরি হয়েছে। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এই শিলার স্তর। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ওই ভূমিরূপ প্রায় ৫ কোটি বছর আগে তৈরি হয়েছিল।

ছায়া-পাথর-আংটি এবং…

২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আইএসএস থেকে তোলা জাবাল আরাকানুর এই ছবি তুলে ওই মহাকাশচারীর মনে হয়েছিল, মরুভূমির মাঝে কিছুর একটা ছায়া পড়েছে। কী সেটা? সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪০০ মিটার উঁচুতে এই আরাকানু। আর ভূপৃষ্ঠ থেকে ওই রিংয়ের মতো অংশটির  শীর্ষের উচ্চতা প্রায় ৮০০ মিটার। সব চেয়ে বড় কথা, ছবিতে আংটির মতো ওই জাবাল আরাকানুর ভিতরে দু’টি নদীখাতেরও খোঁজ পেয়েছেন মহাকাশচারীরা। এখন বিজ্ঞানীদের প্রশ্ন, ওখানে নদীখাত এল কী ভাবে? বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, কোটি কোটি বছর আগে এই এলাকার ভৌগোলিক রূপ, আবহাওয়া আলাদা ছিল। আজ যেখানে মরুভূমি, সেখানেই ছিল নদী।

(Feed Source: zeenews.com)