Pakistan-UK extradition deal: পাকিস্তান-ইউকের চুক্তি, যৌন আপরাধীদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে বিতর্কের ঝড়!

Pakistan-UK extradition deal: পাকিস্তান-ইউকের চুক্তি, যৌন আপরাধীদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে বিতর্কের ঝড়!

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তান ও ইউকের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত একটি বিতর্কিত প্রত্যর্পণ চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই চুক্তির আওতায়, ইউকের যৌন অপরাধে দণ্ডিত পাকিস্তানি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে এই চুক্তির ছায়ায় রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদেরও ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার ফলে মানবাধিকার সংগঠনগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

চুক্তিটি মূলত ইউকের বসবাসকারী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কয়েকজন যৌন অপরাধীর বিরুদ্ধে গৃহীত হয়েছে, যারা তথাকথিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর সদস্য হিসেবে দোষী সাব্যস্ত। এই গ্যাং মূলত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ব্রিটিশ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই এই অপরাধীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছিল, এবং অবশেষে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে সেই পথ সুগম হয়েছে।

তবে এই চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হল, এর আওতায় রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী বা ভিন্নমতাবলম্বীদেরও ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা। বিশেষ করে প্রাক্তন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা ও ইউটিউব অ্যাক্টিভিস্ট মুনির আদিল রাজাকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। রাজা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরার জন্য পরিচিত। পাকিস্তান সরকার তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছে এবং তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য ব্রিটিশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলির আশঙ্কা, এই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে ব্রিটিশ আইনের অপব্যবহার করতে পারে। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ জানিয়েছে, ‘এই চুক্তি যদি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী হবে।’

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই চুক্তিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের পথে এক বড় পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল,ইউকের অপরাধ করে থাকা বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্রিটিশ সমাজকে নিরাপদ রাখা।’তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও রাজনৈতিক আশ্রয় সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নইলে এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই চুক্তি কার্যকর হলে, এটি হবে পাকিস্তানের সঙ্গে ইউকের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ চুক্তি। তবে এর বাস্তবায়ন ও প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

(Feed Source: zeenews.com)