
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল: বিজেপি বিধায়কের বেআইনি পাথর খাদান! ২ বছর পর অবশেষে টনক নড়ল প্রশাসনের। হিমাচল প্রদেশের হামিরপুরে বিজেপি বিধায়ক আশীষ শর্মার মালিকানাধীন একটি স্টোন ক্রাশার ইউনিটের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করল পুলিসই।
জানা গিয়েছে, ৯ সেপেম্বর হামিরপুরের পুলিস সুপারের কাছে গোপন রিপোর্ট জমা পড়ে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই সুজাপুর থানায় FIR দায়ের করা হয়েছে। বিধায়কের মালিকাধীন মহাদেবী স্টোন ক্রাশার যেভাবে পাথর উত্তোলন সংক্রান্ত নথি ব্যবহার করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ওই রিপোর্টে। তবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অবশ্য স্টোন ক্রাসারটি বন্ধ রয়েছে। সেকথাও উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
হামিরপুর পুলিশ সুপার বলবীর সিং বলেন, ‘২০২২ সালে ওই স্টোন ক্রাশারের কার্যকলাপ নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিস। যে স্টোন ক্রাশারের মালিক আশীষ শর্মা। তিনি এখন হামিরপুরের বিধায়ক’। জানান, ‘ওই স্টোন ক্রাশারের লিজ ডিড, রয়্যালটি রসিদ, বিদ্যুৎ খরচের রেকর্ড এবং খনিজ চলাচল নথিভুক্ত করার জন্য বাধ্যতামূলক ‘ডব্লিউ’ এবং ‘এক্স’ ফর্মের রেজিস্টারগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেছে তদন্তকারীরা’।
সূত্রের খবর, স্টোন ক্রাশারের নথিপত্রে গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে। বেআইনিভাবে খননের জন্য যে ইচ্ছাকৃতভাবে যে রেকর্ডে অদলবদল ঘটানো হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। পুলিসের দাবি, সংস্থাটি ‘ডব্লিউ ফর্ম’-এর অপব্যবহার করেছে। যা শুধুমাত্র খনির লিজ ও স্টোন ক্রাশারে খনিজ নিয়ে যাওয়ার জন্যই ব্যবহৃত হওয়ার কথা। কিন্তু সেই সরাসরি প্ল্যান্টের বাইরে বাণিজ্যিক বিক্রয়ের জন্য ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ। আনুমানিক ২৮,১৮০ মেট্রিক টন খনিজ বেআইনিভাবে খনি থেকে তুলে স্টোশ ক্রাশারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে খনি দফতরে রয়্যালটিক টাকা জমা পড়েনি! ফলে রাজ্যের কোষাগারের আনুমানিক ৩৬.৬০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। বিজেপি বিধায়কের স্টোশ ক্রাশারের বিরুদ্ধে চুরি, প্রতারণা, জালিয়াতির মতো ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হামিরপুর থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জিতেছিলেন আশিষ শর্মা। এরপর বিধায়ক পদ ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। ২০২৪ সালে উপনির্বাচনে হামিরপুর থেকে ফের বিজেপির টিকিটে বিধায়ক হন।
(Feed Source: zeenews.com)
