
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: একদিকে অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতি, অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম উচ্চ জনবিস্ফোরণ (Huge Population in Pakistan)—এই দুই সাঁড়াশির চাপে পিষ্ট পাকিস্তান (Pakistan)। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য জন্মনিরোধক সামগ্রী (Contraceptic) বা কন্ডোমের (Condom) দাম কমানোর একটি আর্জি জানিয়েছিল শাহবাজ শরিফ সরকার (Shehbaz Sharif’s request) । কিন্তু আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (IMF) সোজাসুজি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। ফলে পাকিস্তানে কন্ডোম এবং অন্যান্য জন্মনিরোধক সামগ্রীর ওপর ১৮% জিএসটি (18% GST) বহাল থাকছে, যা সাধারণ মানুষের পকেটে বড় টান ফেলছে।
কেন দাম কমছে না?
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউজ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সে দেশের ফেডারেল বোর্ড অফ রেভিনিউ (FBR) সম্প্রতি ওয়াশিংটনে আইএমএফ সদর দপ্তরে ইমেইল পাঠিয়ে জন্মনিরোধক সামগ্রীর ওপর থেকে কর কমানোর আবেদন করেছিল। পাকিস্তানের যুক্তি ছিল, এই কর মকুব করলে সরকারের মাত্র ৪০ থেকে ৬০ কোটি পাকিস্তানি রুপি রাজস্ব ক্ষতি হবে, কিন্তু সাধারণ মানুষ সস্তায় পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম পাবে। তবে আইএমএফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, অর্থবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে কোনোভাবেই কর ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। এই বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে হলে তা আগামী বাজেটের সময় করতে হবে।
আইএমএফ-এর শর্ত কেন মানছে পাকিস্তান?
পাকিস্তান বর্তমানে আইএমএফ-এর একটি বিশাল বেলআউট (আর্থিক সহায়তা) প্রোগ্রামের অধীনে রয়েছে। এই সহায়তার বদলে আইএমএফ পাকিস্তানকে কর আদায় বাড়ানো এবং সরকারি খরচ কমানোর মতো অত্যন্ত কঠোর কিছু শর্ত দিয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তান সরকার তাদের নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে, তাই আইএমএফ কোনো ধরণের কর ছাড় দিতে রাজি নয়।
স্যানিটারি প্যাড এবং ডায়াপারেও বাড়তি কর
সূত্র অনুযায়ী, কেবল কন্ডোমই নয়, শিশুদের ডায়াপার এবং মেয়েদের স্যানিটারি প্যাডের ওপর থেকেও জিএসটি কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল পাকিস্তান। আইএমএফ সেই দাবিও খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় এই জিনিসগুলোও এখন পাকিস্তানে অগ্নিমূল্য।
জনবিস্ফোরণের মুখে পাকিস্তান
পাকিস্তানের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বর্তমানে বার্ষিক ২.৫৫ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। প্রতি বছর সে দেশে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ নতুন করে যুক্ত হচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার লাগাম টানতে জন্মনিরোধক সামগ্রী সস্তা হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু আইএমএফ-এর কঠোর আর্থিক নীতির কারণে সামাজিক প্রয়োজনগুলো এখন গুরুত্ব হারাচ্ছে।
দুর্নীতি দমনে নতুন শর্ত
সম্প্রতি ৭০০ কোটি ডলারের বেলআউট প্রোগ্রামের অধীনে পাকিস্তানের ওপর আরও ১১টি নতুন শর্ত চাপিয়েছে আইএমএফ, যার মূল লক্ষ্য হলো সে দেশে দুর্নীতি দমন করা। গত ১৮ মাসে পাকিস্তানকে সব মিলিয়ে মোট ৬৪টি কঠিন শর্ত পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধ, ধার-দেনা, জনসংখ্যা, অভাব, দারিদ্র নিয়ে জেরবার পাকিস্তান। পহেলগাঁওতে ভারতের সাধারণ পর্যটকদের গুলি করে হত্যা করার পর, সারা পৃথিবীর চক্ষুশূল হয়েছে পাকিস্তান। বাঁচতে বড়দা আমেরিকার স্মরণাপন্ন হয়েছে অবশেষে। একদিকে রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর আরেকদিকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে লঘু পাপে গুরুদণ্ড দিয়ে জেলবন্দি করে রেখেছে প্রায় ২.৫ বছর ধরে। এই নিয়ে সারা পৃথিবীর মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রশ্ন তুলেছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের কাছে জেরবার করেও কোন অর্থ না পেয়ে আরেকবার সারা পৃথিবীর চোখে হাসির পাত্র হল মুনীরের পাকিস্তান।
পাকিস্তানের এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, ঋণের জালে জর্জরিত একটি দেশের পক্ষে জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন। যেখানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ একটি জাতীয় লক্ষ্য হওয়া উচিত, সেখানে কেবল রাজস্বের চাপে কন্ডোম বা স্যানিটারি প্যাডের মতো প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
(Feed Source: zeenews.com)
