
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারত বিরোধী ছাত্র নেতা শরীফ ওসমান হাদি দেহ এখনও হিমঘরে। কথা থাকলেও আজ শুক্রবার দেহ আনা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমে কাজী নজরুল পাশেই নাকি তাঁকে সমাধিস্থ করা হবে বলে খবর। যা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
ফেসবুক পোস্টে ইনকিলাব মঞ্চ থেকে জানানো হয়েছে, ‘শহিদ ওসমান হাদীকে দেহ নিয়ে বিমানবন্দর থেকে হিমঘরের উদ্দেশে গাড়ি রওনা দিয়েছে। সেখানে দেহ রেখে ঢাকার শাহবাগে অবস্থানে বসবেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। পরিবারের দাবি মেনে শহিদ ওসমান হাদীকে কবি নজরুলের পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল, শনিবার মিছিল করে দেহ আনা হবে সেন্ট্রাল মসজিদে’।
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতাকে আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। বলা হয়েছে, কোনওভাবেই যাতে আন্দোলন স্মিমিত হয়ে না পড়ে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। অন্যথায় হাদির মরদেহ দেখার আর কোনও সুযোগ থাকবে না।
ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদি মৃত্যুতে কেন্দ্র ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর মৃত্যু হয় গুলিতে গুরুতর আহত হওয়া এই নেতার। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকা-সহ রাজশাহী, চট্টগ্রাম-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ। রাস্তায় নামেন ছাত্র ও সাধারণ মানুষ।।
রাতভর বিক্ষোভ রাতভর বিক্ষোভ চলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শাহবাগ গোল চত্বরে। স্লোগান ওঠে, ‘আমরা সবাই হাদি হইবো’, ‘অধ্যাদেশ নয়, স্বাধীনতা’। হাদির হত্যাারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকী, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো বাংলাদেশে বড়সারির সংবাদমাধ্য়মের অফিসেও ভাঙচুর চালান হাদি অনুগামী। সঙ্গে অবাধে লুঠপাঠ। প্রাণভয়ে ছাদে উঠে যাবন অফিসের কর্মীরার পরে তাদের ক্রেনের সাহায্যে কার্যালয়ের উপর থেকে কর্মীদের উদ্ধার করা হয়। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ অফিস ও শেখ মুজিবের বাড়ি‑র মতো স্থাপনায় বিক্ষোভাকারীরা হামলা চালায় বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় দিকে দিকে ফের ভারতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে একদল। ভারত – বিরোধী স্লোগান তোলা হচ্ছে দিকে দিকে। কট্টরপন্থীরা বৃহস্পতিবার রাতেই ভারতীয় সহকারী-হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে ইটপাটকেল ছোড়ে। রাজশাহীতে বিক্ষোভকারীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি এবং আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন ধরায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, হাদির হত্যাকারীরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত হাদির হত্যাকারী এবং শেখ হাসিনাকে তাদের হাতে তুলে দেয়,ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের অফিস বন্ধ থাকবে।
এই আবহেই বাংলাদেশের অর্ন্তর্বতী সরকার মহম্মদ ইউনূস সকলকে শান্তি বার্তা দিয়েছে। এবং হাদির মৃত্যুতে একদিনের শোক দিবস ঘোষণা করেছেন তিনি হাদিকে ‘স্বাধীনতার সংগ্রামী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যারা তাঁর আওয়াজ বন্ধ করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত দ্রুত অগ্রসর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
