
India
oi-Sanjay Ghoshal
ফ্যাক্ট চেক ওয়েবসাইট অল্ট নিউজের সহ প্রতিষ্ঠা মহম্মদ জুবেয়েরকে গ্রেফতারের ঘটনায় ভারতের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল জার্মানি। জার্মানির সেই প্রতিক্রিয়ার পাল্টা দিল ভারত। মহম্মদ জুবেয়ের ২০১৮ সালের একটি টুইট করেছিলেন। তার জেরে তাঁকে গ্রেফতার করা হল ২০২২-এর ২৭ জুন।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে এক টিভি শো-তে নবি মহম্মদ সম্পর্কে বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মা বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তার জেরে গোটা দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তাঁকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছিল সমস্ত মুসলিম সংগঠন। ভারতের কঠোর সমালোচনা করেছিল মুসলিম দেশগুলি। ভিনদেশে ভারতের চাপ বাড়ছিল। তারপর ফ্যাক্টচেকের সহ প্রতিষ্ঠাতা গ্রেফতারেও চাপ বাড়ে ভারতের।
মহম্মদ জুবেয়েরের গ্রেফতারের বিষয়ে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। বৃহস্পতিবার সরকার এটিকে অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে অভিহিত করেছে। আর বলেছে, আদালতের কোনও মামলার বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও প্রয়োজন নেই। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিষয়টি আদালতে উফস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের আইন ব্যবস্থা স্বাধীন। এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়।
মহম্মদ জুবেয়েরকে গ্রেফতারের বিষয়ে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া সমালোচনা করেছে ভারতের। সংবাদ জগৎকে স্বাধীনতা দিতে হবে। তা সমাজের জন্য উপকারী। আর তাদের উপর নানা বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা যা বলেন বা যা লেখেন তার বিরুদ্ধে কখনই তাদের কারারুদ্ধ করা বা তাদের উপর হামলা করা উচিত নয়। আমরা এই ঘটনায় বিচলিত। আমাদের নয়াদিল্লির দূতাবাস এই ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জার্মানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে মানবাধিকার সংলাপ করছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ভারত নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করে। তাই সেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে প্রয়োজনীয় স্থান দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর মন্তব্য বিকৃতি, টিভি সঞ্চালকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ব্যবস্থায় ‘না’ সুপ্রিম কোর্টের
ফ্যাক্ট চেক ওয়েবসাইট অল্ট নিউজের সহ প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ জুবায়েরকে ২০১৮ সালের ২৭ জুন গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২ জুলাই পুলিশ জুবায়েরের বিরুদ্ধে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্টের অধীনে অতিরিক্ত চার্জ যোগ করে। তাকে আরও ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে রেখেছিল পুলিশ। তারপর বৃহস্পতিবার তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি জামিনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
(Source: oneindia.com
