জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশের ভারত বিরোধী নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শেষকৃত্যের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতে পারে। শনিবার জাতীয় সংসদ চত্বরে হাদির নামাজে দানাজার পর হাজার হাজার মানুষ সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যান। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কোনও ক্রমে শান্ত করে এলাকাছাড়া করেন। তার আগেই অবস্য অন্য দৃশ্য। কয়েক হাজার মানুষ চলে যায় শাহবাগে। সেখানে গিয়ে তারা যে দাবি করেন তাতে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের ঘুম ছুটিয়ে দিতে পারে। কারণ ওই পরিস্থিতির মুখোমুখি তাঁকেও হতে পারে।
শাহবাগে হাজির হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চ ও অন্যান্য সংগঠনের নেতা কর্মীরা। সেখানে গিয়ে তাঁরা দাবি করেছেন, দেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার প্রধান সহযোগীকে পদত্যাগ করতে হবে। শনিবার সন্ধায় ২৪ ঘণ্টার জন্য একটি সময়সীমা দেওয়া হয়। আর ওই দাবি মানা না হলে রবিবার বিকেল ৫টা থেকে শহবাগ অবরোধ করা হবে। ইনকিলাব মঞ্চের সচিব আবদুল্লা আল জাবের ওই সময়সীমা ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন ইনকিলাব, ইনকিলাব-জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ, দিল্লি না ঢাকা-ঢাকা, ঢাকা-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি তারা শাহবাগ মোড়ের নাম পরিবর্তন করে ‘হাদি চত্বর’ রাখার দাবিও জানান।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় জম্মুার নামাজ শেষে একটি ই-রিকসায় চড়ে ফিরছিলেন হাদি। তখনই বাই আরোহী এক দুষ্কৃতী এসে হাদির মাথায় গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে হাদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। এর পরে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কাজি নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে।
এদিকে, ওসমান হাদির খুনিদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিস। তদন্তে পুলিস এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে তাদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে চলে গিয়েছে। ইনকিলাবমঞ্চ ও অন্যান্যদের এখন দাবি, ওই দুই আততায়ীকে গ্রেফতার করতে হবে। অর্থাত্ হাসিনার পর ফের ভারত বিরোধিতার ধুয়ো তুলে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। ফলে ফেল একটা শাহবাগ আন্দোলন গজিয়ে উঠবে কিনা তা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বলা যেতে পারে, একটি কিছুর সলতে পাকাচ্ছে আন্দোলনকারীরা। ফলে ফের বাংলাদেশ অশান্ত হয়ে উঠলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।
শনিবার ওসমান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেল এখনও পর্যন্ত আমরা কিছু করতে পারিনি। খুনি দিনের বেলায় গুলি করে যদি পার পেয়ে যায় এর চেয়ে লজ্জার কিছু নেই। যদি বর্ডার পার হয়ে যায়, ৫-৭ ঘণ্টার মধ্যে তারা কেমন করে পালিয়ে গেল? আমার ভাই শরিফ ওসমান হাদির বিচার যেন প্রকাশ্যে এই বাংলার জমিনে দেখতে পারি। আমার মা প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
