)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রবল জনস্রোতে ভাসল বাংলাদেশের ভারত বিরোধী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির শেষকৃত্য। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ঢাকায় কবি নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই দাফন করা হল ওসমান হাদিকে। পাশাপাশি, হাদিপন্থীরা হুমকি দিলেন পদত্যাগ করতে হবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে। এরকম এক পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে হাদির হত্যাকারীরা কোথায়? প্রথমে বলা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে পালিয়েছে হাদির হত্যাকারীরা। সময় যত এগিয়েছে বাংলাদেশ পুলিস এখন বলছে, হাদির হত্যাকারীরা অন্য কোনও দেশে পালিয়েছে কিনা সে সম্পর্ক এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এমন দাবি খোদ গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলামের।
হাদির হত্যাকারী কারা? হামলার সময় মুখ ঢাকা দিয়েছিল হামলাকারীরা। তার পরেও বিভিন্ন তথ্য়প্রমাণ থেকে জানা যাচ্ছে ই-রিকসায় থাকা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল ফয়সাল করিম মাসুদ। তার সঙ্গে ছিল তার সহযোগী আলমগীর শেখ।
কে এই ফয়সাল করিম মাসুদ? এখনওপর্যন্ত পাওয়া খবর, ফয়সাল করিম ছিল ছাত্রলীগের নেতা। আওয়ামী লীগের ওই ছাত্র সংগঠন এখন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। হাদির নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিল এই ফয়সাল করিম মাসুদ। আলমগীরও হাদির হয়ে ভোটে প্রচার করেছিল। এমনটাই দাবি করছে বাংলাদেশের স্থানীয় মিডিয়া।
এক বছর আগে এই মাসুদকে গ্রেফতার করেছিল পুলিস। অভিযোগ ছিল একটি স্কুলে ডাকাতির। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল একটি বিদেশি পিস্তল। বাংলাদেশ মিডিয়ায় খবর, হাদিকে গুলি করার আগে মাসুদ নাকি তার গারক্লফেন্ডকে বলেছিল, এমনকিছু ঘটতে চলেছে যা গোটা বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেবে। এর কয়ে ঘণ্টা পরই সে হাদির উপরে গুলি চালায়। ঠিক কী বলেছিল ফয়সাল? হাদির শ্যুটার তার বান্ধবী মারিয়াকে বলেছিল, শুক্রবার এমন একটা ঘটনা ঘটতে চলেছে যা গোটা দেশকে কাঁপিয়ে দেবে। এমনটাই দাবি করেছে বাংলাদেশের দৈনিক ডেইলি যুগান্তর। এদিকে, ফয়সাল বিবাহিত। তার নাম সাহেদা পারভিন সামেয়া। তাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিস।
ওসমান হাদি খুনে এখনওপর্য়ন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। এদের মধ্যে রয়েছে ফয়সাল করিমের বাবা, মা, স্ত্রী ও শ্যালক। পাশাপাশি ফয়সালের বান্ধীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়ার একটা তথ্য উঠে আসছিল। এনিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে ২ জন মানব পাচারকারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার ঢাকার পল্টন এলাকায় জম্মুার নামাজ শেষে একটি ই-রিকসায় চড়ে ফিরছিলেন হাদি। তখনই বাইক আরোহী এক দুষ্কৃতী এসে হাদির মাথায় গুলি চালিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে হাদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কাজি নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে।
(Feed Source: zeenews.com)
