জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: ‘হিন্দু রাষ্ট্রে খ্রিস্টান সামগ্রী বিক্রি করা যাবে না’। বড়দিনের আগে ওডিশায় হেনস্থার মুখে সান্টা টুপি বিক্রেতারা! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিয়ো। ভিডিয়ো দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেটিজেনরা।
কলকাতায় প্যাটিস কাণ্ডে ছায়া এবার ওডিশা। সামনেই বড়দিন। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে,রাস্তায় পাশেই সান্টা ক্লজের টুপি বিক্রি হচ্ছে। হঠাত্ বিক্রেতাদের ঘিরে ধরে বেশ কয়েকজন। বিক্রেতাদের পরিচয় ও তাঁরা হিন্দু কিনা, জানতে চান। টুপি বিক্রেতারা জানান, তাঁরা হিন্দু। কিন্তু অভাবের কারণে সান্টা ক্লজের টুপি বিক্রি করছেন। এরপর একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে প্রভু জগন্নাথের রাজত্ব চলবে। হিন্দু হয়ে তোমরা এমন কাজ করছ কী করে? তাড়াতাড়ি সব গুটিয়ে এখান থেকে চলে যাও। যদি কিছু বিক্রি করতে হয়, তাহলে প্রভু জগন্নাথের সামগ্রী বিক্রি কর’।
এদিকে কয়েজন বিক্রেতা জানান, তাঁরা রাজস্থান থেকে এসেছেন। তখন এক ব্য়ক্তি বলেন, ‘ওডিশায় জিনিস বিক্রি করতেই পারেন। কোনও আপত্তি নেই। তবে তা যেন খ্রিস্টান ঘর্মের সামগ্রী না হয়’।
— Roshan Rai (@RoshanKrRaii) December 22, 2025
এদিকে এই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দা ঝড় ওঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই ঘটনার জন্য ২০২৪ সালে ওডিশায় বিজেপি সরকার গঠন করার পর দক্ষিণপন্থী জাতীয়তাবাদ এবং উগ্র দেশপ্রেমের উত্থানকে দায়ী করেছেন অনেকেই। এক্স হ্যান্ডেলে একজন লিখেছেন, ‘যখন আপনারা আশা করেন যে বিদেশিরা হিন্দু উৎসব পালন করবে, তখন কেন আপনারা নিজেদের দেশের মানুষকে তাদের উৎসব পালন করতে দিচ্ছেন না? ওই ছেলেটি যে জাতি বা ধর্মেরই হোক না কেন, সে আপনাদের মতো টাকা দেখানোর জন্য এগুলো বিক্রি করছে না, বরং নিজের ও পরিবারের পেট চালানোর জন্য করছে’।
আর একজনের মতে, ‘শপিং মল বা বড় দোকানগুলোতে গিয়ে কেন বড়দিনের সামগ্রী বিক্রি বন্ধ করতে পারছে না? জীবিকার তাগিদে কাজ করা নিরীহ মানুষকে হেনস্থা করা—বিজেপি বা সংঘী বাস্তুতন্ত্র কী ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি করেছে’। একজন লিখেছেন, ‘ওডিশায় এমন ঘটনা দেখে স্তম্ভিত। এখন বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় চিত্রনাট্য এমনই হবে’। অন্য একজন মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, কোনো মব-শাসিত ধর্মতাত্ত্বিক দেশ নয়। সান্তা টুপি বিক্রির জন্য একজন দরিদ্র মানুষকে হেনস্থা করা অসাংবিধানিক, অনৈতিক এবং অভারতীয়। এটিই বিজেপির ‘নতুন ভারত’-এর ধারনা’।
এর আগে, কলকাতায় ব্রিগেডে ‘৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ অনুষ্ঠানের দিন চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠেছিল। যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। মুখ খোলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘গীতাপাঠ তো ঘরেই করা যায়। তার জন্য ব্রিগেডে পাবলিক মিটিং কেন? ঠাকুর-দেবতা মনের মধ্যে থাকেন। ধর্ম মানে মানবিকতা—হিংসা নয়।’ বলেন, ‘এক জন গরিব হকার তার জিনিস বিক্রি করতে গিয়েছে। তাকে ধরে মেরেছে। যারা গায়ে হাত দিয়েছে, সব ক’টাকে অ্যারেস্ট (গ্রেফতার) করেছি। এটা বাংলা, এটা ইউপি (উত্তরপ্রদেশ) নয়। এখানে তোমাদের হুকুম চলবে না, আদেশও চলবে না’।
(Feed Source: zeenews.com)
