জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী’ হানা! ‘শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী’ মার্কিন হানায় উড়ে যাচ্ছে একের পর এক ঘাঁটি! নাইজেরিয়ার মাটিতে আমেরিকার ISIS নিধন যজ্ঞের ভিডিয়ো প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র। নাইজেরিয়ায় আইএসআইএস লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস)-এর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার এই হামলার ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে। যেখানে একটি এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেট বাহিনীর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী’ হামলা চালিয়েছে। এমন একটা সময়ে এই হামলা করা হয়েছে, যখন প্রায় এক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প নাইজেরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের উপর হয়ে চলা নিপীড়ন দমন করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ করা ভিডিয়োতে যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে দেখা গিয়েছে। বড়দিনের সন্ধ্যায় ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ISIS ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলার কথা পোস্ট করেন। তবে হামলা সম্পর্কে বিশদে বা ক্ষয়ক্ষতির কোনও পরিমাণ তিনি উল্লেখ করেননি।
ট্রাম্প লিখেছেন, আকাশপথে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছে। যারা প্রধানত নিরীহ খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে আক্রমণ ও নির্মমভাবে তাদের হত্যা করে আসছিল। ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ রাতে, কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে আমার নির্দেশে, মার্কিন বিমানবাহিনী উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় আইএসআইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। যারা কিনা বহু বছর ধরে—এমনকি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে—প্রধানত নিরীহ খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে আক্রমণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছিল!’
মার্কিন আফ্রিকা কমান্ডও (AFRICOM) বিবৃতি দিয়ে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কমান্ড জানিয়েছে, ট্রাম্প ও যুদ্ধ সচিবের নির্দেশে নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে সোকোতো রাজ্যে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একাধিক আইএসআইএস সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এই হামলার বিষয়ে নাইজেরিয়ার বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবেই গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও কৌশলগত সমন্বয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার মাধ্যমে নির্ভুল আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে।
নাইজেরিয়া বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও বলা হয়েছে, নাইজেরিয়া সরকার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। খ্রিস্টান, মুসলিম বা অন্য যে কোনও সম্প্রদায়ের প্রতি সন্ত্রাসী মনোভার ও সহিংসতা নাইজেরিয়ার মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তার প্রতি অবমাননা। সরকার কোনওভাবেই নাজেরিয়ার মাটিকে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল হতে দেবে না। উল্লেখ্য, সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের উপর সন্দেহভাজন আইএসআইএস হামলার পরই পালটা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন ট্রাম্প।
(Feed Source: zeenews.com)
