প্রমোদ শর্মা: মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্কুলে ‘ভূতের আতঙ্ক’। হনুমান চালিসার স্মরণাপন্ন হয়ে চলছে ক্লাস। আর এই অস্বাভাবিক আতংকেই ২১ জন ছাত্রী অসুস্থ ওই স্কুলে।
সরকারি স্কুলে কি ভূতের আসর? ছাত্রীদের ওপর অদৃশ্য শক্তির হামলা! এরকম অস্বাভাবিক কিছু আঁচ পাওয়ার পরেই হনুমান চালিসা পড়ানোর ধুম ক্লাসে। সেওনি জেলার মঢ়ী গ্রামের সরকারি স্কুলে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ছাত্রীরা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। ডাক্তাররা ব্যর্থ হওয়ায় এখন ওঝা ও ঝাড়ফুঁকের ওপর ভরসা করছেন গ্রামবাসীরা।
আতঙ্ক অব্যাহত: গত এক সপ্তাহে স্কুলের প্রায় ২২ জন ছাত্রীর আচমকা শরীর খারাপ হওয়ায় হুলুস্থুল পড়ে গেছে। স্কুলে পা রাখলেই ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
অস্বাভাবিক উপসর্গ: ছাত্রীদের গলায় অসহ্য ব্যথা, হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়া (আকড়ানি) এবং অদ্ভুতভাবে চিৎকার করার মতো ঘটনা ঘটছে।
স্কুলের পরিসংখ্যান: সেওনি জেলার মঢ়ী গ্রামের এই হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে মোট ২৮৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে ১৩৩ জন ছাত্র এবং ১৪৬ জন ছাত্রী। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কেবল ছাত্রীরাই এই সমস্যার শিকার হচ্ছে।
আধ্যাত্মিক প্রতিকার: পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুল প্রাঙ্গণে গেরুয়া পতাকা লাগানো হয়েছে এবং লাউডস্পিকারে অবিরাম হনুমান চালিসা বাজানো হচ্ছে। স্থানীয়রা একে ‘প্রেতবাধা’ বলে বিশ্বাস করছেন।
সরেজমিনে তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান:
স্কুলের প্রিন্সিপাল হরি প্রসাদ সয়াম জানান, ‘ছাত্রীরা একের পর এক অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। চিকিৎসায় কোনো উন্নতি না হওয়ায় গ্রামবাসীদের পরামর্শে আমরা হনুমান চালিসার পাঠ শুরু করেছি। মেয়েদের সাথে ঠিক কী ঘটছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’
ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিজ্ঞতা:
প্রিয়া ঝঙ্গেলা: এই ছাত্রী অনেক সাহস করে স্কুলে এলেও ভেতরে ঢুকতে ভয় পাচ্ছে। তার দাবি, কেউ একজন তাকে স্কুলের পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।
প্রাচী ঝঙ্গেলা: একাদশ শ্রেণির এই ছাত্রী আচমকা চিৎকার শুরু করলে তাকে মন্দিরে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়। প্রাচী নিজে একজন ‘স্নেক এক্সপার্ট’ এবং কোবরার মতো সাপ অনায়াসে ধরতে পারে, কিন্তু এই ‘অদৃশ্য শক্তি’র কাছে সেও কাবু হয়ে গিয়েছিল। তার ভাই জানান, ওঝার পড়া জল দেওয়ার পরেই সে সুস্থ বোধ করে।
চিকিৎসা বনাম বিশ্বাস:
মঢ়ী গ্রামের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মনিকা বুনকর বলেন, ‘অসুস্থ ছাত্রীদের সব রিপোর্ট নরমাল আসছে। এমন অদ্ভুত রোগ আমরা আগে কখনও দেখিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।’ অন্যদিকে, পণ্ডিত রাজকুমার পারাশর দাবি করেন, স্কুলে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব রয়েছে এবং এখানকার বাস্তু ঠিক নেই।
পরীক্ষা ও অনিশ্চয়তা:
সামনে ফাইনাল পরীক্ষা, কিন্তু অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে রাজি নন। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁরা নিরাপত্তার গ্যারান্টি চাইছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা প্রশাসন ও ধর্মীয় বিশ্বাস—উভয়েরই সাহায্য নিচ্ছে, কিন্তু কোনও গ্যারান্টি দেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে স্কুলে ছাত্রদের দেখা গেলেও ছাত্রীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
এর আগে, এই রাজ্যে স্কুলে ‘ভূত’ দেখেছিল! আর বাড়ি ফিরে সেই আতঙ্কে ছটফট করতে করতে প্রাণ গিয়েছিল তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর। ঘটিনাটি ঘটেছিল সিউড়ির (Suri) কাঁকড়তলার বাবুইজোড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই স্কুলের এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে৷ মৃত ওই ছাত্রীর নাম রিমি মণ্ডল। কী ভাবে তার মৃত্যু হল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মিড ডে মিলের (Mid day meal) থালা রাখতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীরা বলতে থাকে, তারা ‘ভূত’ দেখেছে। সেই থেকে স্কুলে হঠাৎ ভূতের আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী ঘোষ জানান, ‘আমরা সঙ্গে সঙ্গে স্কুল পড়ুয়াদের জানিয়ে দিই, ভৌতিক কিছু নয়।’ কিন্তু তাতেও সমস্যা মেটেনি। গত দু’দিন স্কুল পড়ুয়ারা ভূতের ভয়ে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। তিনশো ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে ২৫ জন পড়ুয়া উপস্থিত ছিল।
(Feed Source: zeenews.com)
