
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এ যেন একেবারে সোজাসুজি কাউকে গন্ডার বলা! সোজাসাপ্টা চাঁছাছোলা ভাষায় বলা যে, তোমার গায়ের চামড়া মোটা! তোমার কোনও লজ্জাও নেই! আর তাই তোমায় নতুন করে লজ্জা দেওয়াও যায় না! ঠিক এতটাই তীক্ষ্ণ, তীব্র ও আগুন ঝরানো বক্তব্যে বিতর্ক সভায় পাকিস্তানকে ‘ধুইয়ে দিলেন’ অক্সফোর্ডের এক ভারতীয় পড়ুয়া। চোখে আঙুল দিয়ে পাকিস্তানকে আয়না দেখালেন বীরাংশ ভানুশালী নামে অক্সফোর্ডের ওই ভারতীয় পড়ুয়া। ইতিমধ্যেই বীরাংশের সেই আগুনে বক্তব্য ভাইরাল নেটমাধ্যমে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা উপছে পড়ছে বীরাংশের বিক্রমে।
কী নিয়ে ছিল বিতর্ক?
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘পাকিস্তানের প্রতি ভারতের নীতি আসলে নিরাপত্তা নীতির নামে এক ধরনের জনতুষ্টিবাদী মুখোশ।’ ভানুশালী এই প্রস্তাবের বিপক্ষে বক্তব্য রাখেন। ধারালো যুক্তিতে প্রমাণ করে দেন যে ভারতের নীতি মূলত বাস্তব ও যুক্তিসঙ্গত নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দ্বারাই চালিত। কোনও সস্তা জনতুষ্টিবাদ দ্বারা নয়।
কে এই বীরাংশ ভানুশালী?
আদতে মুম্বইয়ের বাসিন্দা বীরাংশ ভানুশালী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। তিনি সেন্ট পিটার্স কলেজে ‘BA Jurisprudence (LLB), English Law with Law Studies in Europe’ কোর্সে পাঠরত। বীরাংশ অক্সফোর্ডের ২০২৬ ব্যাচের ছাত্র। বর্তমানে বীরাংশ অক্সফোর্ড ইউনিয়নের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি The Oxford Majlis-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যা সাংস্কৃতিক ও চিন্তনশীল আলোচনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি ছাত্র উদ্যোগ। এর আগে তিনি ইন্টারন্যাশনাল অফিসার ছিলেন এবং ইউনিয়নের সেক্রেটারির কমিটিতেও কাজ করেছেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন মুলুকে যাওয়ার আগে মুম্বইয়ের NES ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন বীরাংশ। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্ক সভায় বীরাংশের প্রতিপক্ষ ছিলেন পাকিস্তানি পড়ুয়া মুসা হররাজ।
বীরাংশ তাঁর বক্তব্যে কী বলেন?
বীরাংশ তাঁর বক্তব্যে তাঁর সহপাঠী ও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি, পাকিস্তানের মুসা হাররাজের বক্তব্যের মোকাবিলা করেন। হাররাজ বলেছিলেন, পাকিস্তানের প্রতি ভারতের নীতি জনতুষ্টিবাদ দ্বারা প্রভাবিত। যার জবাবে ভানুশালী বলেন, ২৬/১১-এর পর সংযম দেখানো থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নেওয়া সামরিক পদক্ষেপ—সবকিছুই ভারতের কৌশলগত হিসেব-নিকেশেরই প্রতিফলন। ভোটের জন্য কোনও নাটকীয়তা নয়।
তিনি যুক্তি দেন, সন্ত্রাসী হামলা এবং সেগুলির প্রতি ভারতের প্রতিক্রিয়া কখনওই নির্বাচনী চক্রের সঙ্গে মেলে না। পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী হামলা কীভাবে হাজার হাজার ভারতীয়ের জীবনকে প্রভাবিত করেছে, একজন ভারতীয় হিসেবে তা তুলে ধরেন ভানুশালী। বীরাংশ বলেন, যে রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেয়, তারা অন্যদের নৈতিকতা শেখানোর কোনও অধিকার রাখে না। পাঠানকোট, উরি ও পুলওয়ামা হামলার প্রসঙ্গ টেনে তীক্ষ্ণ ভাষায় বীরাংশের তীব্র ধিক্কার, “যে রাষ্ট্রের কোনও লজ্জা নেই, তাকে আর নতুন করে কোনও লজ্জা দেওয়া যায় না।”
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কী?
ঐতিহ্যশালী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-পরিচালিত বিতর্ক সভাই হল অক্সফোর্ড ইউনিয়ন। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ছাত্র-পরিচালিত বিতর্ক সভা। ১৮২৩ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপরই এই বিতর্ক সভার সূচনা।
(Feed Source: zeenews.com)
