)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ছাত্রনেতা ওসমান হাদির খুনের পর বাংলাদেশের বিরাট অংশজুড়ে প্রবল গোলমাল শুরু হয়ে যায়। তারপরই গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে পিটিয়ে খুন করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে। রটিয়ে দেওয়া হয় সে ইসলাম অবমাননাকর মন্তব্য করেছে। সেই অভিযোগেই তাতিয়ে দেয় জনতাকে। কিন্তু তার আগেও ঘটেছিল অনেককিছু। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় উঠে এসেছে হাড়হিম সেই কথা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রত্যক্ষদর্শী এক সর্বভারতীয় দৈনিকে বলেছেন, পায়োনিয়ার নিট ওয়ার্ক নামে এক কোম্পানিতে কাজ করতেন দীপু। অত্যন্ত কর্মঠ দীপু সম্প্রতি প্রমোশনের জন্য একটি পরীক্ষা দিয়েছিল। তার পরই প্রমোশন পেয়ে ফ্লোর ম্যানেজার থেকে সে সুপারভাইজার হয়ে যায় দীপু। আরও প্রমোশনই কারখানায় কর্মীদের অনেকের চক্ষুশূল করে তোলে দীপুকে। এর জেরেই দীপুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমামনার গুজব রটিয়ে দেওয়া হয়।
ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ১৮ ডিসেম্বর দীপুকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে কারখানার কর্মীরা। তার পরেই তাকে কারখানার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা উন্মত্ত জনতার হতে তুলে দেওয়া হয়। তারা দীপুরে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। তার গোটা শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। জনতা দানবীয় আচরণ করছিল। এর মধ্য়ে তাকে কিছু লোক স্থানীয় থানায় নিয়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্য়ু হয়। পরে তার দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
দীপুর ভাই অপুর রবি দাস ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছেন, কারখানার বহু শ্রমিক ওর প্রমোশনের জন্য ওকে হিংসে করত। সেই জায়গা থেকেই ওর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ওই ক্ষমা চাওয়ার পরও ওকে মারধর করে কারখানার বাইরে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীপুর বন্ধ আমাদের ফোনে খবর দেয় এরকমটা হচ্ছে। পরে বলে থানায় নিয়ে গিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরে বলে ও বেঁচে নেই। আমরা গিয়ে দেখি ওর দেহটাও পুড়িয়ে দিয়েছে।
ধর্ম অবমাননার বিষয়ে ময়মনসিংহের অ্যাডিশনাল এসপি আবদুল্লাহ আল মামুন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, দীপু ধর্ম অবমাননা করেছে এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যে থানায় দীপুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেই ভালুকা মণ্ডল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমে বলেন, দীপুর বিরুদ্ধে ইসলাম অবমানাকর কোনও কিছুর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কাজের জায়গায় কোনও দ্বন্দ্ব থেকে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জোপাজ্জল হোসেন বলেন ধর্মীয় উন্মাদনার ফলে হঠাত্ করে কিছু হয়ে গিয়েছে বলে মনে হয় না। এর পেছনে পরিকল্পনা ছিল। শুনেছি ওর কাজে জায়গায় প্রোডাকশন টার্গেট রিচ করা, ওভারটাইম করা নিয়ে ওর সহকর্মীদের সঙ্গে ওর বিবাদ ছিল। তার জেরেই কারখানা থেকে ওকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
(Feed Source: zeenews.com)
