Reason of Venezuela Attack Explained: শুধুই কি ড্রাগ পাচার! ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণের পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের এইসব মতলব…

Reason of Venezuela Attack Explained: শুধুই কি ড্রাগ পাচার! ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণের পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের এইসব মতলব…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমেরিকার ছলের অভাব হয় না। দুনিয়া যখন ডি-ডলারাইজেশের দিকে ঝুঁকছে ততই চাপ বাড়ছে আমেরিকার উপরে। ইরাক আক্রমণের সময় তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুক্তি ছিল সাদ্দাম হোসেন ইরাকে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র জড়ো করেছে। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে সেটা হল ড্রাগ। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নাকি আমেরিকা ড্রাগ পাচার করছে। তাই তাকে জব্দ করতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপারেশনে সেদেশে ডেল্টা ফোর্স নামিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ধরে নিয়ে চলে গেলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে।

মদুরো ও তাঁর স্ত্রী, তাঁর দুই ছেলে ও আরও তিন জনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার টাকা দিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করা বা উস্কানি দিচ্ছেন এমনটাই অভিযোগ ট্রাম্পের। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাঠাচ্ছে, ভারী অস্ত্র ও বিপজ্জনক সরঞ্জাম মজুত করছে এমনও অভিযোগ ট্রাম্পের।

মাদুরের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, ২০২০ সালে একই অভিযোগ আনা হয়েছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওইসব অভিযোগ ম্যানহাটন আদালতে দায়ের করা হয়েছিল। গত শনিবার নতুন এই অভিযোগপত্রটি জনসমক্ষে আনা হয়, যেখানে তার স্ত্রীকেও আসামি করা হয়েছে। এটি ক্রিসমাসের ঠিক আগে নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে গোপনে জমা দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগে বলা, মাদুরো বিশ্বের অন্যতম ভয়ানক মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক-সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর সাথে হাত মিলিয়েছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল হাজার হাজার টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা।

আমেরিকার দাবি, সিনালোয়া কার্টেল, ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাং-এর মতো বিশ্বের বড় মাদক চোরাচালানকারী গোষ্ঠীগুলো ভেনেজুয়েলা সরকারের সাথে মিলেমিশে কাজ করে।  এই চক্রের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ ভেনেজুয়েলার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাত। এর বিনিময়ে ওই কর্মকর্তারা মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেন এবং যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বা সহায়তা প্রদান করতেন।

অভিযোগ অনুসারে আমেরিকার দাবি, মাদুরো এবং তার পরিবার মাদক ব্যবসায়ীদের আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষা করতেন। মাল আনা-নেওয়ার কাজে সরাসরি সহায়তা করতেন। সরকারি সহায়তায় ২০২০ সালে ভেনেজুয়েলা থেকে ২৫০ টন পর্যন্ত কোকেন পাচার করা সম্ভব হয়েছে। ওই মাদক পাচারের জন্য দ্রুতগামী নৌকা, মাছ ধরার ট্রলার, কন্টেইনার জাহাজ এবং গোপন বিমানবন্দর থেকে বিমানের সহায়তা দেওয়া হত।

মাদুরো ধরা পড়ার পর, ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। এদিকে, বিদেশি কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করার জন্য চালানো এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে কিছু আইন বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা দাবি করেছেন যে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক ব্রিফিংগুলোতে তাদের ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। তাদের মতো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণের পেছনে অন্য অনেক কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আক্রমণের আসল কারণ হল ‘পেট্রো-ডলার’ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করা।

তেল ও রাজনীতির লড়াই

প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেসের সময় থেকেই ভেনেজুয়েলা এই পুরোনো পেট্রো-ডলার ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পারেনি। ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ট্রাম্পের বক্তব্য এই উদ্দেশ্যকেই প্রমাণ করে।

তেলের বাজারে প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর এর বড় কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ভেনেজুয়েলা দিনে মাত্র ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্বের মোট চাহিদার মাত্র ১%। শনিবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে—জানুয়ারিতে ব্যারেল প্রতি দাম ৮০ ডলারের কাছাকাছি থাকলেও বর্তমানে তা ৫৭.৩২ ডলারে নেমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব তেলের উৎপাদন বাড়িয়েছে এবং তাদের জরুরি তেলের মজুদ শক্তিশালী করেছে, যাতে বিশ্ববাজারে বড় কোনো অস্থিরতা না তৈরি হয়।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সব কিছুই নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন বাড়বে এবং বিশ্ববাজারে প্রভাব পড়বে।

ট্রাম্পের অবস্থান

ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন যে, কয়েক বছর আগে সম্পদ জাতীয়করণের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা আমেরিকার ‘তেলের অধিকার’ কেড়ে নিয়েছিল। তার এই কথা থেকে বোঝা যায় তিনি আবারও সেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান।

(Feed Source: zeenews.com)