
দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: ৪ জানুয়ারি, ইংরেজি নববর্ষের প্রথম রবিবার। আর এদিন সাত সকালেই শোকের ছায়া নেমে এল ময়দানে। ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও কিংবদন্তি বাঙালি ফুটবলার প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasanta Banerjee) হারালেন তাঁর ছোট ছেলে প্রণোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Pronojit Banerjee)। মাত্র একত্রিশ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন তিনি।
কী হয়েছিল প্রণোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের?
বেশ কিছুদিন ধরেই প্রণোজিৎ অসুস্থ ছিলেন। প্রায় বছর চারেক আগে মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়েছিল তাঁর। মল্লিক বাজারের এক বেসরকারি স্নায়ু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হওয়ার পর প্রণোজিৎ সুস্থ হয়েও উঠেছিলেন। নিয়মিত অফিস করতেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পেয়েছিলেন ছন্দ। গতবছরের গোড়ায় আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রশান্ত তাঁর পুত্রকে নিয়ে চেন্নাইয়ে গিয়েছিল চিকিৎসার জন্য। সেখানে চিকিৎসার পর অনেকটাই সুস্থ ছিলেন প্রণোজিৎ। এরপর হঠাৎ ফুসফুসের সংক্রমণ হয়। সল্টলেক স্টেডিয়ামের অদূরের এক বেসরকারি হাসপাতালে প্রণোজিতের মৃত্যু হয়েছে এদিন ভোরে। পুরো ময়দান রয়েছে প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে।

প্রশান্ত ছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার
মিডফিল্ডার প্রশান্ত ১৯৮৪ এশিয়াডে ভারতের হয়ে খেলেছিলেন। তিনি সেই অল্প কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন যিনি দেশের তিন বড় ক্লাব ও ময়দানের তিন প্রধান—ইস্ট বেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন এবং শিরোপা জিতেছেন। ১৯৭৫ সালে কালীঘাটের জার্সিতে সিনিয়র কেরিয়ার শুরু প্রশান্তর। ১৯৭৬ সালে তিনি ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেন এবং ১৯৭৯-৮০ সালে দলের অধিনায়কত্ব করেন। পরে তিনি মহামেডান স্পোর্টিং এবং তারপর মোহনবাগানে খেলেন। তিনি সন্তোষ ট্রফিতে বাংলা এবং ভারতীয় দলেরও অধিনায়কত্ব করেছেন। ১৯৮৩ সালে তিনি বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। তিনি মোহনবাগানের হয়েও খেলেছেন, যেখানে তিনি আই-লিগ ক্লাবটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও পালন করেছেন।
অবসরের পর প্রশান্ত এএফসি-র এ, বি এবং সি লাইসেন্সিং কোর্স করেন। পরে তিনি ফিফা ইনস্ট্রাক্টর কোর্স সম্পন্ন করেন এবং ২০০২-০৩ সালের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেন। প্রশান্ত সন্তোষ ট্রফিতে পশ্চিমবঙ্গ দল এবং কলকাতা ফুটবল লিগে পোর্ট ট্রাস্ট ও আরিয়ান এফসি দলেরও কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
