
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উইপ্রো (Wipro) তাদের কর্মীদের জন্য অফিসে উপস্থিতির নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে (Wipro’s New Work From Office Rules).
১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্মীদের অফিসে থাকার সময়সীমা এবং হাইব্রিড মডেলের শর্তাবলী আরও কঠোর করা হয়েছে। উইপ্রোর নতুন অফিস নীতিতে দিনে অন্তত ৬ ঘণ্টা উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
উইপ্রোর নতুন নিয়ম
আইটি পরিষেবা খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান উইপ্রো তাদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম অফিস’ (Work From Office) বা অফিসে উপস্থিতির নীতিতে পরিবর্তন এনেছে এবং কর্মীদের জন্য কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্মীদের অফিসে থাকাকালীন অন্তত ছয় ঘণ্টা সময় কাজ করতেই হবে। উইপ্রো একটি হাইব্রিড মডেল অনুসরণ করছে, যেখানে কর্মীদের সপ্তাহে অন্তত তিন দিন অফিস থেকে কাজ করা বাধ্যতামূলক। বেঙ্গালুরুর এই কোম্পানিতে প্রায় ২,৩৪,০০০ কর্মী কর্মরত। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
যদিও সপ্তাহে তিন দিন অফিসে আসার নিয়মটি আগে থেকেই ছিল, তবে প্রবেশ এবং প্রস্থানের সময়ের (entry and exit punches) ভিত্তিতে ন্যূনতম ছয় ঘণ্টা অফিসে থাকার শর্তটি ভারতের হাইব্রিড কর্মকাঠামোতে একটি নতুন সংযোজন।
অনুপস্থিতিতে ছুটি কাটা যাবে
যেসব কর্মী সাপ্তাহিক উপস্থিতির শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের প্রাপ্য ছুটি থেকে তা কেটে নেওয়া হবে। এছাড়া, নির্ধারিত দিনে যদি কোনও কর্মী ছয় ঘণ্টার কম সময় অফিসে কাটান, তবে তার ‘অর্ধ-দিবস’ (half-day) ছুটি কাটা যাবে।
উইপ্রো সাময়িকভাবে বাড়ি থেকে বা দূরবর্তী স্থানে বসে কাজ করার (remote working) সুযোগ অব্যাহত রাখলেও, বছরে এই ধরনের ছুটির সংখ্যা ১৫ দিন থেকে কমিয়ে ১২ দিন করেছে। এই দিনগুলো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের প্রয়োজনে, অসুস্থতায় বা পরিবারের যত্ন নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
আইটি ফার্ম উইপ্রো খুব সম্প্রতি ইমেইলে জানিয়েছে যে, হাইব্রিড কাজ তাদের ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইমেইলে বলা হয়েছে, ‘আমরা বিশ্বাস করি সকল সহকর্মী এই নীতিটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন, কারণ এটি নমনীয়তা প্রদানের পাশাপাশি দলগত সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।’
কাজের সময় বনাম উপস্থিতির সময়
আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ছয় ঘণ্টার নিয়ম কেবল অফিসে উপস্থিত থাকার ন্যূনতম সময়কে বোঝায়, এটি মোট দৈনিক কাজের সময় নয়। দৈনিক কাজের সময় আগের মতোই ৯.৫ ঘণ্টা থাকছে। কর্মীদের প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে তারা দিনের বাকি কাজের সময়টুকু বাড়ি থেকে সম্পন্ন করবেন এবং দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন।
কেন এই পরিবর্তন?
২৮৩ বিলিয়ন ডলারের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে বর্তমানে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর দ্রুত প্রসারের ফলে প্রথাগত লোকবল-নির্ভর কাজের মডেলে পরিবর্তন আসছে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজেক্টের টাইট শিডিউল এবং নিবিড় সমন্বয়ের প্রয়োজনে কোম্পানিগুলো এখন সরাসরি উপস্থিত থেকে কাজ করার ওপর জোর দিচ্ছে।
স্টাফিং ফার্ম কোয়েস কর্প (Quess Corp)-এর নির্বাহী পরিচালক গুরুপ্রসাদ শ্রীনিবাসন বলেন, ‘আগে একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে ২-৩ বছর লাগত। এখন সফটওয়্যার ডিজাইনের ধরন বদলেছে, মাত্র ৮ সপ্তাহের মধ্যে অ্যাপ্লিকেশন বাজারে আনা হচ্ছে। কাজের গতি বাড়ায় কর্মীদের দ্রুত সমন্বয় করতে হয়, যা রিমোট ওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা অদক্ষ হয়ে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন যে, অ্যাকাউন্টিং বা ডেটা হ্যান্ডলিংয়ের মতো রুটিন কাজগুলো আলাদাভাবে করা সম্ভব হলেও, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট বা প্রজেক্ট এক্সিকিউশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সরাসরি উপস্থিত থাকা প্রয়োজন।
ভারতীয় আইটি খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ভারতের বৃহত্তম আইটি প্রতিষ্ঠান টিসিএস (TCS) গত বছর সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস করার নিয়ম চালু করেছে। তবে অসুস্থতার ক্ষেত্রে মাসে দুই দিন বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ রয়েছে। তারা ভেরিয়েবল পে (বোনাস) অফিস উপস্থিতির সাথে যুক্ত করেছে। ৮৫ শতাংশের বেশি উপস্থিতি থাকলে পূর্ণ বোনাস দেওয়া হয়, আর উপস্থিতি ৬০ শতাংশের নিচে নামলে কোনো ভেরিয়েবল পে দেওয়া হয় না।
অন্যদিকে ইনফোসিস (Infosys) ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর তাদের নীতি ঘোষণা করে। সেই অনুযায়ী, লেভেল ৫ এবং তার নিচের পদের কর্মীদের মাসে অন্তত ১০ দিন অফিসে আসা বাধ্যতামূলক।
(Feed Source: zeenews.com)
