)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্বের দরবারে ভারতীয় সংগীতের অন্যতম মুখ এ আর রহমান (A R Rahman)। আজ তিনি কেবল একজন অস্কারজয়ী সংগীতকার নন, বরং সম্প্রীতির প্রেক্ষিতে তিনি যেন আস্ত ভারতবর্ষ। তাঁর সুরে যেমন বৈচিত্র্য, তাঁর জীবনেও মিশে আছে এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক সম্প্রীতি। একসময় তাঁর নাম ছিল এ এস দিলীপ কুমার। কিন্তু কীভাবে তিনি ‘এ আর রহমান’ হয়ে উঠলেন, সেই গল্প আজও অনেককে অবাক করে।
নাসির মুন্নি কবিরের বই ‘এ আর রহমান: দ্য স্পিরিট অফ মিউজিক’-এ রহমান নিজেই তাঁর এই পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর শৈশব কেটেছে এমন এক পরিবেশে যেখানে সব ধর্মের সহাবস্থান ছিল। তাঁর মা ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু। কিন্তু তাঁদের ঘরের দেওয়ালে যেমন হিন্দু দেবদেবীর ছবি ছিল, তেমনই ছিল যিশু-মাতা মেরি এবং মক্কা-মদিনার পবিত্র ছবিও।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, তাঁর এই মুসলিম নামটি প্রস্তাব করেছিলেন এক হিন্দু জ্যোতিষী। রহমানের বোন যখন বিয়ের জন্য এক জ্যোতিষীর কাছে কোষ্ঠী দেখাতে গিয়েছিলেন, ঠিক সেই সময় নিজের ধর্ম পরিচয় বদলাতে চাইছিলেন রহমান। সেই হিন্দু জ্যোতিষীই তাঁকে ‘আব্দুল রহমান’ এবং ‘আব্দুল রহিম’—এই দুটি নাম দেন। রহমানের ‘রহমান’ নামটি অত্যন্ত মনে ধরে যায়। তিনি বলেছিলেন, “একজন হিন্দু জ্যোতিষীই আমাকে আমার মুসলিম নামটি দিয়েছিলেন।”
বাবার অকাল মৃত্যু রহমানকে আধ্যাত্মিকতার দিকে ঠেলে দেয়। পরে পীর কাদরি সাহেবের সান্নিধ্যে এসে তিনি সুফিবাদ বা সুফি ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন। রহমান বিশ্বাস করেন, ধর্ম কোনো চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, এটি হৃদয়ের টান। যিশু খ্রিস্টের একটি উক্তি তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল একটি নির্দিষ্ট পথ বেছে নিতে। তাঁর মতে, সংগীতেই তিনি সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা খুঁজে পেয়েছেন এবং এই আধ্যাত্মিক শান্তিই তাঁর সুরের উৎস। তাঁর জীবনদর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর কাজ ও সহমর্মিতায়, কোনো সংকীর্ণ গণ্ডিতে নয়।
(Feed Source: zeenews.com)
