জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারত বিরোধিতা না করে জল খান না বাংলাদেশের নেতারা। কখনও কলকতা দখল করে নেওয়ার ডাক তো কখনও সেভেন সিস্টার্স আলাদা করে দেওয়ার জিগির তুলে চলেছেন সেখানকার খুচরো নেতারা। তার পরেই আদানির বিদ্যুত্ নিতে আপত্তি নেই ইউনূস সরকারে। এবার দেশে তেলের সংকট মেটাতে এবার ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করছে বাংলাদেশ সরকার।
বাংলাদেশ ওই ডিজেল নেবে নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে। ওই বিপুল পরিমাণ ডিজেল কিনতে বাংলাদেশের খরচ হবে ১ হাজার ৪৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের বাজেট ও ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে এই টাকার ব্যবস্থা করা হবে। মঙ্গলবার অর্থ উপদেষ্টা ড.সালেহউদ্দিন আহমেদ’র সভাপতিত্বে এক বৈঠকে ওই তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ওই বৈঠক সূত্রে খবর, নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ২০২৬ সালের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এই প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে অনুমোদন পায়।
চুক্তির মূল বিষয়গুলো হল, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই আমদানির প্রক্রিয়া চলবে। ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে এই ডিজেল কেনা হবে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন উন্নত মানে র (০.০০৫% সালফার) ডিজেল আসবে।
বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের জন্য দাম ধরা হয়েছে ৫.৫০ মার্কিন ডলার এবং রেফারেন্স মূল্য ৮৩.২২ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের সাথে ভারতের ১৫ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় ২০১৬ সাল থেকে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। শুরুতে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে তেল আনা হলেও, ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে ‘ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল আসছে।
সম্প্রতি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার জেরে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ভারত থেকে তেল আমদানি করা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
উত্তরে তিনি স্পষ্ট করে বলেন,”নুমালীগড় থেকে ডিজেল আনার এই চুক্তিটি ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী। এটি বর্তমান সরকারের করা কোনো চুক্তি নয়, বরং অনেক আগের করা একটি চুক্তি। সেই পূর্বনির্ধারিত চুক্তির নিয়ম অনুযায়ীই এখন ডিজেল আনা হচ্ছে।”
(Feed Source: zeenews.com)
