)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাবনা ও চট্টগ্রামে দুই হিন্দু ব্যক্তির হিংসাত্মক ও সন্দেহজনক মৃত্যুতে ওপার বাংলা জুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একদিকে পাবনায় পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ও আওয়ামি লিগ নেতা প্রলয় চাকীর, অন্যদিকে চট্টগ্রামে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করা হয়েছে সমীর দাস নামের এক অটোচালককে।
চট্টগ্রামের দাগনভূঁইঞায় ২৮ বছর বয়সী তরুণ সমীর দাসকে রবিবার রাতে ঘাতকরা ঘিরে ধরে। প্রথমে তাঁকে বেধড়ক মারধর এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। খুনের পর তাঁর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। পুলিশ এটিকে ‘পরিকল্পিত খুন’ বলে প্রাথমিক ধারণা করছে।
পাবনায় প্রলয় চাকির মৃত্যুর ঘটনায় জেল কর্তৃপক্ষের ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’র তত্ত্ব মানতে নারাজ পরিবার। এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাড়ি, ব্যবসা ও উপাসনালয়ে উগ্রপন্থীদের আক্রমণ একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ঘটনাগুলোকে ‘ব্যক্তিগত শত্রুতা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”
ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। তার আগে সংখ্যালঘু পরিষদের দাবি, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা পরিকল্পিতভাবে বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যার হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস এই হিংসার খবরকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সতর্ক করছে।
(Feed Source: zeenews.com)
