
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কানাডার ইতিহাসের (Canada Gold Heist) সবচেয়ে বড় সোনা চুরির ঘটনা, যা ‘প্রজেক্ট ২৪কে’ (Project 24K) নামে পরিচিত, সেই মামলার তদন্তে এক বড় সাফল্য পেয়েছে পিল রিজিওনাল পুলিস (PRP)। গত সোমবার টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Toronto Pearson International Airport) থেকে ৪৩ বছর বয়সী আরসালান চৌধুরী (Arsalan Chaudhury) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা) মূল্যের সোনার বার চুরির এই বিশাল কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গেছে, আরসালান চৌধুরী, দুবাই থেকে ফিরছিলেন। বিমানবন্দরে পা রাখতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তার নির্দিষ্ট কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই বলে জানা গিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৫,০০০ ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তি চুরি, ডাকাতির অর্থ ও সম্পত্তি দখলে রাখা এবং দণ্ডনীয় অপরাধ ঘটানোর ষড়যন্ত্রে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে জামিনের জন্য ব্রাম্পটনের অন্টারিও কোর্ট অফ জাস্টিসে হাজির করা হয়।
যেভাবে ঘটেছিল ২০ মিলিয়ন ডলারের সেই স্বর্ণ ডাকাতি
২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনাটি ঘটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ থেকে একটি বিশেষ বিমান টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সেই বিমানে ৪০০ কেজি ওজনের ৯৯.৯৯ শতাংশ খাঁটি স্বর্ণবার ছিল, যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া ওই একই চালানে আরও ২.৫ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রাও ছিল।
বিমানবন্দরে নামার পর কার্গো চালানটিকে একটি নির্দিষ্ট গুদামে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই রহস্যজনকভাবে সেটি নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপরই কানাডা ও আমেরিকার সীমান্তে শুরু হয় বিশাল এক তদন্ত অভিযান। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিস মোট দশজনকে শনাক্ত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
ভারতে আত্মগোপন করে থাকা আরও এক অভিযুক্ত
এই ডাকাতি মামলার অন্যতম মূল সন্দেহভাজন হলেন ৩৩ বছর বয়সী সিমরন প্রীত পানেসার। তিনি এয়ার কানাডার প্রাক্তন কর্মী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমের কারসাজি করে ওই মূল্যবান চালানটির গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন।
তদন্তকারী অধিকর্তারা ধারণা করছেন যে, সিমরন বর্তমানে ভারতে রয়েছে। ২০২৪ সালের শুরুতে চণ্ডীগড়ের উপকণ্ঠে একটি ভাড়া বাসায় তার অবস্থানের খবর পাওয়া গিয়েছিল। তার বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এছাড়া, এই মামলার আরেক অভিযুক্ত ব্রাম্পটনের বাসিন্দা অর্চিত গ্রোভারকে গত মে মাসে একই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনিও তখন ভারত থেকে কানাডায় ফিরছিলেন।
প্রথমেই চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দশ জনকে চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর পর একে একে ধরা পড়েন অর্চিত গ্রোভার, পরমপাল সিধু, অমিত জালোটা, প্রসাথ পরমালিঙ্গম, আলি রাজা, আম্মাদ চৌধুরী এবং ডুরান্টে কিং-ম্যাকলিন।
কানাডার পুলিস এবং সীমান্ত সংস্থাগুলো এই আন্তর্জাতিক চক্রটিকে পুরোপুরি ধরতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। আরসালান চৌধুরীর গ্রেফতার এই তদন্তে নতুন তথ্য বেরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়া ২০ মিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ উদ্ধার করাই এখন তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
(Feed Source: zeenews.com)
