বিখ্যাত বলিউড র্যাপার এবং গায়ক ইয়ো ইয়ো হানি সিংকে হরিদ্বারে পৌঁছানোর পর আধ্যাত্মিকতায় আচ্ছন্ন দেখা যায়। তিনি তার অনেক সাক্ষাৎকারে এই পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেছেন। এই পর্বে আবারও ধর্মীয় শহর হরিদ্বারে পৌঁছেছেন হানি সিং। নীলেশ্বর মহাদেব মন্দিরে রুদ্রাভিষেক হানি সিং হরিদ্বারে পৌঁছানোর সাথে সাথেই হানি সিং সরাসরি নীলেশ্বর মহাদেব মন্দিরে পৌঁছে যান, যেখানে তিনি রীতি অনুযায়ী ভগবান ভোলেনাথের রুদ্রাভিষেক করেন। হানি সিংকে মন্দির প্রাঙ্গণে ভোলেনাথের ভক্তিতে পুরোপুরি মগ্ন দেখা যায়। শান্ত মন, সরলতা এবং ভক্তি সহকারে তিনি শিবের কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণ করেছিলেন। শিবলিঙ্গ সত্যযুগের সময় থেকে। মন্দিরের পুরোহিত জানান, এখানে সত্যযুগ থেকে একটি শিবলিঙ্গ রয়েছে। এটি সেই জায়গা যেখানে ভোলেনাথ তার চুল থেকে বীরভদ্রকে তৈরি করেছিলেন এবং এখানে বসে রাজা দক্ষিণের যজ্ঞ ধ্বংস করেছিলেন। মহাসমুদ্র মন্থন থেকে যে বিষ বেরিয়েছিল ভগবান শঙ্কর এই স্থানেই পান করেছিলেন। বিষ পান করে ভোলেনাথ এখান থেকে নীলকন্ঠে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। কথিত আছে, ভোলেনাথ যখন সমুদ্র মন্থন থেকে আহরিত বিষ পান করেছিলেন, তখন এই পাহাড় এবং গঙ্গার জল নীল হয়ে গিয়েছিল। তাই আজও এই পর্বত নীল পর্বত এবং গঙ্গা নীল গঙ্গা নামে পরিচিত। স্কন্দ পুরাণ ও শিব পুরাণে বর্ণনা আছে। পুরোহিত জানান, স্কন্দপুরাণ ও শিব পুরাণে এই স্থানটির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এই মন্দিরে আসা সমস্ত ভক্তের ইচ্ছা পূরণের গুরুত্বও রয়েছে। পুরোহিত বলেন, মন্দিরে গঙ্গাজলের একটি পাত্র নিবেদন করলে তীর্থযাত্রার ফল পাওয়া যায় এবং পূর্ণিমার দিনে দুধ দিয়ে অভিষেক করলে বিশেষ ফল পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, হানি সিং এর আগেও বহুবার হরিদ্বার গিয়েছেন। তিনি যখনই ধর্মনগরীতে আসেন, নীলেশ্বর মহাদেব মন্দিরে পৌঁছে ভোলেনাথের আশীর্বাদ নিতে ভোলেন না। হানি সিংয়ের এই আধ্যাত্মিক প্রবণতা তার ভক্তদের মধ্যেও আলোচনার বিষয়।
